ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
হামাস সদস্যদের খুঁজে খুঁজে বের করা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫
- / 94
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হামাস ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না এবং তারা চুক্তি থেকে পিছিয়ে এসেছে। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, হামাসের যেসব সদস্য এখনো সক্রিয় রয়েছেন, তাদের ‘খুঁজে খুঁজে বের করা’ হবে।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা চূড়ান্ত ধাপে জিম্মি মুক্তির অপেক্ষায় আছি। হামাস জানে, সব জিম্মি ছাড়া হয়ে গেলে এরপর কী হতে পারে। তাই তারা চুক্তি করতে চায় না।”
ট্রাম্পের মতে, হামাস মূলত আতঙ্কে আছে। তারা চাইছে না সব বন্দি মুক্ত হোক, কারণ তারপরে ইসরাইল কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে তারা ভীত। প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “আমি মনে করি, তারা (হামাস) মরতে চায়। এটা খুব, খুব খারাপ।”
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এখনই যুদ্ধ পুরোপুরি থামাতে চায় না। বরং সীমিত সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি দরকার, যেন জিম্মিদের উদ্ধার করা যায়। আর এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেছে হামাস।
একইসঙ্গে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ জানান, ওয়াশিংটন তাদের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা কমিয়ে আনছে, কারণ হামাস যথেষ্ট আগ্রহ দেখায়নি। ইসরাইলও তাদের আলোচক দল কাতার থেকে ফিরিয়ে নিয়েছে।
হামাস বলছে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের চেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছে। সংগঠনটির মতে, কাতার ও মিশরের মতো দেশগুলো তাদের এই ইতিবাচক মনোভাবকে স্বীকৃতি দিয়েছে। হামাস আরও বলেছে, তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পক্ষে, যাতে গাজায় হামলা বন্ধ হয় এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান আসে।
গত কয়েক মাস ধরে গাজায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি এবং বন্দিমুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ প্রক্রিয়ায় ১০ জন ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্ত করার বিনিময়ে ইসরাইল গাজায় সাময়িক হামলা বন্ধ রাখবে বলে কথা হয়। কিন্তু ইসরাইলের কর্মকর্তারা বারবার স্পষ্ট করেছেন, জিম্মিরা ছাড়া পেলেই আবার সামরিক অভিযান শুরু হবে এবং গাজার জনগণকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেন, “যুদ্ধবিরতির সময় হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে গাজার দক্ষিণে আটকশিবিরে পাঠানো হবে, যাতে পরে পুরো অঞ্চল থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়।”
অন্যদিকে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, “গাজায় আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। যুদ্ধবিরতি আলোচনা চললেও আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য অপরিবর্তিত।”
বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কাছে যুদ্ধবিরতি একটি কৌশল মাত্র, জিম্মি মুক্তির পর তারা আবার পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করতে চায়। আর হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি করলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভারসাম্যে তারা কার্যত একঘরে হয়ে পড়েছে।































