হাদিসে ভবিষ্যদ্বাণী: কেন আজ ইলমহীন বক্তা বেশি?
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 88
কেয়ামতের ছোট নিদর্শনগুলোর মধ্যে একটি হলো—ইলমহীন বক্তাদের প্রভাব বৃদ্ধি এবং প্রকৃত আলেমদের সংখ্যা কমে যাওয়া। রাসুলুল্লাহ (স.) এ বিষয়টিকে কেয়ামতের নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমান যুগে এই ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতিফলন চোখে পড়ছে।
হাদিসে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণী
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন; “প্রথমে এমন একটি যুগ আসবে, যখন আলেমদের সংখ্যা বেশি এবং বক্তাদের সংখ্যা কম। পরে এমন একটি যুগ আসবে, যখন বক্তাদের সংখ্যা বেশি হবে এবং আলেমদের সংখ্যা কমে যাবে। তখন যে ব্যক্তি তার জানা ইলমের সামান্য অংশও আঁকড়ে ধরবে, সে নাজাত পাবে।” (তিরমিজি: ২২৬৭)
ইলম উঠে যাওয়ার প্রক্রিয়া
ইলম বইয়ের মাধ্যমে নয়, বরং আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে পৃথিবী থেকে উঠে যায়। রাসুল (স.) বলেছেন, “আল্লাহ বান্দাদের কাছ থেকে ইলম ছিনিয়ে নেবেন না, বরং আলেমদেরকে তুলে নেবেন। তখন মানুষ মূর্খ নেতাদের অনুসরণ করবে এবং অনভিজ্ঞতার কারণে নিজেরা ও অন্যদের পথভ্রষ্ট করবে।” (সহিহ বুখারি: ১০০; মুসলিম: ২৬৭৩)
বর্তমান বাস্তবতায় হাদিসের প্রতিফলন
ইলমহীন বক্তব্যের ছড়াছড়ি: সোশ্যাল মিডিয়ায় কম ইলমে ফতোয়া বা বক্তব্য দেওয়া সাধারণ হয়ে গেছে।
প্রকৃত আলেমদের স্বল্পতা: যারা কোরআন-হাদিস জানেন, কম সংখ্যক।
অনুষ্ঠান বাড়ছে, আমল কমছে: নামাজ সংক্ষিপ্ত ও খুতবা দীর্ঘ হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আরও কিছু কেয়ামতের নিদর্শন
রাসুল (স.) বলেছেন, ইলম উঠে যাবে, অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়বে, মদ্যপান এবং ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে
(সহিহ বুখারি: ৮০; মুসলিম: ২৬৭১)
সমাধান ও রক্ষার উপায়
নিজের জানা ইলম আঁকড়ে ধরা: হাদিস অনুসারে, ইলমহীন যুগে সামান্য জ্ঞানও রক্ষা করা জরুরি।
বিশুদ্ধ উৎস থেকে জ্ঞান অর্জন: প্রামাণিক ও সত্যিকার আলেমদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
জ্ঞান ও আমলের সমন্বয়: শুধুই জানা নয়, জানার ওপর আমল করা গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের বাস্তবতায় বক্তার সংখ্যা বাড়লেও প্রকৃত আলেম কমে যাচ্ছে। এই সংকটময় সময়ে সঠিক দ্বীনি জ্ঞান অর্জন ও বিভ্রান্তি থেকে বাঁচাই আমাদের ঈমান রক্ষার পথ।





































