চিকিৎসককে গ্রেপ্তার
হাতুড়ে চিকিৎসকের অপচিকিৎসায় ইউপি সদস্যের মৃত্যু
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
- / 84
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় হাতুড়ে চিকিৎসকের অপচিকিৎসায় সাবেক এক নারী ইউপি সদস্যর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর সারাদিন নানা নাটকীয়তার পর পুলিশে সংবাদ দিলে অভিযুক্ত ওই হাতুড়ে চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি লাশ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা জানান, এর আগেও ওই হাতুড়ে চিকিৎসকের অপচিকিৎসায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও অর্থের বিনিময়ে সব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্ত হাতুড়ে চিকিৎসকের দাবি, রোগীর শরীরে কেবল স্যালাইন পুশ করা হয়েছিল, তবে অন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়ার আগেই মারা যান সাবেক ওই ইউপি সদস্য। যদিও দীর্ঘদিন এলাকায় চিকিৎসা করলেও তিনি মাত্র পাঁচ মাসের একটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ ছাড়া আর কোনো সার্টিফিকেট পাননি।
মৃতের সন্তান সঞ্জিব বালা, শীলা বালা ও সেলী বালা অভিযোগ করে জানান, শনিবার (২৩ আগস্ট) থেকে ডায়রিয়া ও সামান্য জ্বর নিয়ে নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের কান্দিরপাড় গ্রামের সুনিল চন্দ্র বালার স্ত্রী ও রাজিহার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক নারী সদস্য লিপিকা বালা। রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে হঠাৎ তিনি গ্যাসট্রিকের সমস্যা অনুভব করলে ছেলে, স্কুলশিক্ষক সঞ্জিব বালা মায়ের চিকিৎসার জন্য খবর দেন একই এলাকার কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈয়ের ছেলে হাতুড়ে চিকিৎসক কিরণ চন্দ্র বাড়ৈকে।
কিরণ চন্দ্র বাড়ৈ এসে প্রথমে লিপিকা বালার শরীরে স্যালাইন ও অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ করার সাথে সাথেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, হাতুড়ে চিকিৎসকের অপচিকিৎসায়ই সাবেক ওই নারী ইউপি সদস্য মারা যান। তারা আরও জানান, রবিবার সারাদিন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নানা প্রভাবশালী চেষ্টা করেন।
পরে খবর পেয়ে রবিবার রাতেই অভিযুক্ত ওই হাতুড়ে চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি লাশ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এলাকাবাসীর দাবি, পরিবারের পক্ষ থেকে স্যালাইন ও অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ না করার অনুরোধ করা হলেও একপ্রকার জোর করেই তা দেন কিরণ চন্দ্র বাড়ৈ। এতে সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয় লিপিকা বালার। পরে এ অবস্থায় এন্টিবায়োটিক ইনজেকশনের প্যাকেট নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। এর আগেও তার চিকিৎসায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও সবকিছু অর্থের বিনিময়ে গোপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযুক্ত কিরণ চন্দ্র বাড়ৈ অবশ্য রোগীকে স্যালাইন দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অপচিকিৎসায় মৃত্যু হয়নি। সার্টিফিকেট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, মাত্র পাঁচ মাসের একটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করা ছাড়া তার কোনো প্রকার চিকিৎসা-সংক্রান্ত সার্টিফিকেট নেই।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে হাতুড়ে চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
































