হাওয়ার পর বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন তুষির
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 76
আলোচিত সিনেমা ‘হাওয়া’–তে অভিনয়ের পর দর্শকের কাছে নতুনভাবে পরিচিতি পান নাজিফা তুষি। মেজবাউর রহমান সুমনের পরিচালনায় ২০২২ সালের ২৯ জুলাই মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান তিনি। তবে ‘হাওয়া’র পর দীর্ঘ সময় বড় পর্দায় দেখা না যাওয়ায় তুষিকে ঘিরে দর্শকের মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল ও নানা প্রশ্ন।
এ প্রসঙ্গে তুষির ভাষ্য, দীর্ঘদিন তাঁর কোনো কাজ মুক্তি না পেলেও তিনি নিয়মিত কাজ করে গেছেন। সিনেমাগুলো এখনো মুক্তি না পাওয়ায় দর্শকের চোখে তা পড়েনি।
২০১৫ সালে রেদওয়ান রনির পরিচালনায় ‘আইসক্রিম’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে লাক্স তারকা তুষির। এরপর ‘হাওয়া’য় যুক্ত হতে সময় লেগেছে সাত বছর। এক দশকের ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত তাঁর অভিনীত সিনেমা মুক্তি পেয়েছে মাত্র দুটি। সিনেমার সংখ্যা কম হওয়ায় অনুরাগীদের আক্ষেপও কম নয়।
হাওয়া করার আগে ভালো কাজের অপেক্ষায় থাকতাম, ফলে কম কাজ করেছি। তবে এখন একদমই কম কাজ করছি না।
নাজিফা তুষি, অভিনেত্রী
তবে সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চলতি বছরটি নিজের করে নিতে চান তুষি। তিনি বলেন, ‘হাওয়া’র আগে ভালো কাজের অপেক্ষায় থাকতাম, তাই কম কাজ করেছি। এখন আর সে অবস্থা নেই। কাজ করছি নিয়মিত।’
‘হাওয়া’ মুক্তির পর প্রায় ছয় মাস বিরতি নিলেও এরপর টানা তিন বছর ধরে সিনেমার কাজ করছেন তুষি। তাঁর ভাষায়, এটাই তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়।
বর্তমানে আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ সাদের পরিচালনায় একটি সিনেমা, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, রায়হান রাফীর ‘আন্ধার’–এর শুটিং শেষ করেছেন তিনি। আগামী মার্চে এন রাশেদ চৌধুরীর ‘সখী রঙ্গমালা’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেবেন তুষি। এ ছাড়া আরও একটি সিনেমার কাজ করছেন, যার নাম ও পরিচালক শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এরই মধ্যে ‘রইদ’ সিনেমাটি নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ টাইগার কম্পিটিশন–এ নির্বাচিত হয়েছে। উৎসব পর্ব শেষে চলতি বছর সিনেমাটি মুক্তির কথা রয়েছে। পাশাপাশি ‘আন্ধার’, **‘সখী রঙ্গমালা’**সহ তুষির একাধিক সিনেমা এ বছর মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে।
চরিত্র ও অভিনয়
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘রইদ’–এর ট্রেলারে নজর কাড়েন তুষি। সিনেমায় তাঁর চরিত্রের কোনো নাম নেই—তিনি পরিচিত ‘সাদুর বউ’ হিসেবে। চরিত্রটি প্রসঙ্গে তুষি বলেন, এই অঞ্চলের নারীরা জীবনের বিভিন্ন ধাপে বাবার, স্বামীর কিংবা সন্তানের পরিচয়ে পরিচিত হলেও নিজের নাম হারিয়ে ফেলেন—এই বাস্তবতাই প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে চরিত্রটির মাধ্যমে।
সিনেমায় সাদু চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। সাদু, তার স্ত্রী ও বাড়ির পাশের একটি তালগাছকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে যায়। হাজার বছরের পুরোনো লোকজ আখ্যানকে সমসাময়িক ভাষায় নির্মাণ করেছেন মেজবাউর রহমান সুমন।
ভৌতিক ঘরানার সিনেমা ‘আন্ধার’–এ নাদিয়া নামের একটি চরিত্রে দেখা যাবে তুষিকে। সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছে, বর্তমানে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। আর ‘সখী রঙ্গমালা’ সিনেমায় তিনি অভিনয় করছেন রঙ্গমালা চরিত্রে। অন্য দুটি সিনেমার চরিত্রের নাম আপাতত প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
গ্ল্যামারহীন চরিত্রে আপত্তি নেই
গুলতি কিংবা সাদুর বউ—গ্ল্যামারহীন চরিত্রে অভিনয় করাকে ঝুঁকি মনে করেন না তুষি। তাঁর মতে, শিল্পীর কাজই হলো ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভাঙা।
তুষির ভাষায়, গ্ল্যামার থাকুক বা না থাকুক, সেটি তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। চরিত্রটিকে কতটা গভীরভাবে ধারণ করতে পারছেন—সেটাই তাঁর কাছে মুখ্য।
নতুন বছরের ভাবনা
চলতি বছর তুষির একাধিক সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। দর্শকের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করেই তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাতে চান।
তুষি বলেন, ‘এই বছরে আমার করা কাজগুলো দর্শকেরা কীভাবে নেয়, সেটা দেখেই পরের পথ ঠিক করব। ভালো চরিত্র বেছে নিয়ে ভালো কাজ করতে চাই—এটাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।’



































