ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হল ছাড়ছেন বাকৃবি শিক্ষার্থীরা, আন্দোলনের ঘোষণা একাংশের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 137

হল ছাড়ছেন বাকৃবি শিক্ষার্থীরা, আন্দোলনের ঘোষণা একাংশের

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে হলে থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। তবে অন্য একটি অংশ প্রশাসনের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে হল খালি করার নির্দেশ দেয়। সকাল ৭টার দিকে ক্যাম্পাসে গেলে দেখা যায়, পরিস্থিতি থমথমে। প্রবেশ ফটকে অবস্থান করছে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা।

জুলাই ৩৬ হল ও বেগম রোকেয়া হল এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও বইপত্র নিয়ে আবাসিক হল ছাড়তে দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, গত রবিবার রাতে বহিরাগতদের হামলার পর পরিবার থেকেও হল ছাড়ার চাপ এসেছে। এক ছাত্রী বলেন, “যেভাবে রাতের বেলা হামলা চালানো হয়েছে তা ভয়াবহ। এখানে থাকা আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।”

অন্যদিকে কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে রুম সিলগালা করা হচ্ছে, এমনকি পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, “এটা নতুন কিছু নয়। গত বছরও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে একইভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাতারাতি শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। আমরা হল ছাড়ব না।”

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো;
১. একক ডিগ্রি, অর্থাৎ শুধু কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালু রাখতে হবে।
২. বহিরাগতদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দায়ে পুরো প্রক্টোরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে।
৩. ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় উপাচার্যকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৪. এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটবে না; এ নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং হামলায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, সমন্বিত ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলনরত পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওপর রবিবার রাতে একদল বহিরাগত হামলা চালায়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হল ছাড়ছেন বাকৃবি শিক্ষার্থীরা, আন্দোলনের ঘোষণা একাংশের

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে হলে থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। তবে অন্য একটি অংশ প্রশাসনের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে হল খালি করার নির্দেশ দেয়। সকাল ৭টার দিকে ক্যাম্পাসে গেলে দেখা যায়, পরিস্থিতি থমথমে। প্রবেশ ফটকে অবস্থান করছে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা।

জুলাই ৩৬ হল ও বেগম রোকেয়া হল এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও বইপত্র নিয়ে আবাসিক হল ছাড়তে দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, গত রবিবার রাতে বহিরাগতদের হামলার পর পরিবার থেকেও হল ছাড়ার চাপ এসেছে। এক ছাত্রী বলেন, “যেভাবে রাতের বেলা হামলা চালানো হয়েছে তা ভয়াবহ। এখানে থাকা আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।”

অন্যদিকে কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে রুম সিলগালা করা হচ্ছে, এমনকি পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, “এটা নতুন কিছু নয়। গত বছরও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে একইভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাতারাতি শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। আমরা হল ছাড়ব না।”

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো;
১. একক ডিগ্রি, অর্থাৎ শুধু কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালু রাখতে হবে।
২. বহিরাগতদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার দায়ে পুরো প্রক্টোরিয়াল বডিকে পদত্যাগ করতে হবে।
৩. ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় উপাচার্যকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৪. এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর ঘটবে না; এ নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং হামলায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, সমন্বিত ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলনরত পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীদের ওপর রবিবার রাতে একদল বহিরাগত হামলা চালায়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।