হরমুজ প্রণালি বন্ধের পক্ষে ইরানের পার্লামেন্টের ভোট
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
- / 158
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে ইরানের পার্লামেন্ট। তবে এখনও এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। বিষয়টি এখন যাবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে, যারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রেস টিভি জানায়, ইরানি আইনপ্রণেতা ও বিপ্লবী গার্ডের সাবেক কমান্ডার ইসমাইল কোসারি বলেছেন, এই প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে আছে এবং যখন প্রয়োজন হবে, তখনই তা কার্যকর করা হবে।
৩৫-৬০ মাইল প্রশস্ত হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে আরব সাগরের সঙ্গে। এই প্রণালিটি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য এখান দিয়ে পরিবহিত হয়—যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ।
বিশ্বজুড়ে ২০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-ও এই পথ দিয়েই যায়। প্রণালির চারপাশে প্রধান দেশ হিসেবে রয়েছে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালিটি বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে। এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য আমদানিনির্ভর দেশগুলো।
সৌদি আরব প্রতিদিন এখান দিয়ে ৬০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে। দক্ষিণ কোরিয়ার মোট তেল আমদানির ৬০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ঘনীভূত হাইড্রোকার্বন আমদানি করে এই পথ দিয়ে, যা তাদের মোট আমদানির ১১ শতাংশ।
ইউরোপ তুলনামূলকভাবে কম নির্ভরশীল হলেও প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেলের কম তেল এই প্রণালি হয়ে যায় সেখানে।
যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হয়, তবে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে এশীয় ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।





































