ঢাকা ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্মৃতিসৌধে গণকবর ছিল অরক্ষিত, হয়েছে অবমাননা

রেদোয়ান হাসান, সাভার
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:০২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 127

ফুলের পাহারায় থাকলেও গণকবর ছিল অরক্ষিত

মহান বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে অশ্রদ্ধাপূর্ণ ও বেমানান চিত্র দেখা গেছে। অনেকেই শহীদদের গণকবরের ওপর দাঁড়িয়ে সেলফি ও টিকটক ভিডিও তৈরি করেছেন, যা একদিকে শহীদদের প্রতি অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রাঙ্গণ সাধারণ দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এরপরই রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের একাংশের খামখেয়ালিপনার কারণে গণকবরের মর্যাদা অরক্ষিত থেকে যায়। অনেকেই কবরের ওপর উঠে ছবি তুলেছেন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করেছেন।

স্মৃতিসৌধের প্রধান বেদীতে ফুলের যত্নের জন্য কর্মীরা দায়িত্ব পালন করলেও, গণকবরের দিকে কোনও নজরদারি দেখা যায়নি। এতে অনেকেই না বুঝে কবরের ওপর ওঠেন। কিছু দর্শনার্থী পরে সাংবাদিকদের কাছে জানায়, তারা জানতেন না এটি গণকবর বা ওপর ওঠা নিষিদ্ধ।

স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষক আজহার আলী বলেন, “গণকবরের ওপর উঠে নাচানাচি করা ও টিকটক বানানো অত্যন্ত অশ্রদ্ধাপূর্ণ। এটি প্রশাসনের নজরদারির অভাব প্রকাশ করে।”
স্থানীয় বাসিন্দা সজিব আহাম্মেদ বলেন, “বিজয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন আচরণ কেবল অসচেতনতা নয়, এটি শহীদদের প্রতি অমানবিক অবমাননা। কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।”

এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আনু জানান, “প্রত্যেক কবরের সামনে ‘এখানে ওঠা নিষেধ’ লেখা সত্ত্বেও অনেকে তা উপেক্ষা করেছে। আমরা চেষ্টা করেছি নিয়ন্ত্রণ করতে, কিন্তু দর্শনার্থীর নিজের সচেতনতার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

স্মৃতিসৌধে গণকবর ছিল অরক্ষিত, হয়েছে অবমাননা

সর্বশেষ আপডেট ০৭:০২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

মহান বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে অশ্রদ্ধাপূর্ণ ও বেমানান চিত্র দেখা গেছে। অনেকেই শহীদদের গণকবরের ওপর দাঁড়িয়ে সেলফি ও টিকটক ভিডিও তৈরি করেছেন, যা একদিকে শহীদদের প্রতি অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রাঙ্গণ সাধারণ দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এরপরই রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের একাংশের খামখেয়ালিপনার কারণে গণকবরের মর্যাদা অরক্ষিত থেকে যায়। অনেকেই কবরের ওপর উঠে ছবি তুলেছেন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করেছেন।

স্মৃতিসৌধের প্রধান বেদীতে ফুলের যত্নের জন্য কর্মীরা দায়িত্ব পালন করলেও, গণকবরের দিকে কোনও নজরদারি দেখা যায়নি। এতে অনেকেই না বুঝে কবরের ওপর ওঠেন। কিছু দর্শনার্থী পরে সাংবাদিকদের কাছে জানায়, তারা জানতেন না এটি গণকবর বা ওপর ওঠা নিষিদ্ধ।

স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষক আজহার আলী বলেন, “গণকবরের ওপর উঠে নাচানাচি করা ও টিকটক বানানো অত্যন্ত অশ্রদ্ধাপূর্ণ। এটি প্রশাসনের নজরদারির অভাব প্রকাশ করে।”
স্থানীয় বাসিন্দা সজিব আহাম্মেদ বলেন, “বিজয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন আচরণ কেবল অসচেতনতা নয়, এটি শহীদদের প্রতি অমানবিক অবমাননা। কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।”

এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আনু জানান, “প্রত্যেক কবরের সামনে ‘এখানে ওঠা নিষেধ’ লেখা সত্ত্বেও অনেকে তা উপেক্ষা করেছে। আমরা চেষ্টা করেছি নিয়ন্ত্রণ করতে, কিন্তু দর্শনার্থীর নিজের সচেতনতার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে।”