স্মৃতিসৌধের ভেতরে ফুটপাতের দোকান: চাঁদাবাজির অভিযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:১১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 104
বিজয় দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করে ভেতরে শতাধিক দোকান বসানোর অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, এই দোকানদারদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়েছে, যা স্মৃতিসৌধের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন অসাধু চক্রের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে। ঘটনায় দর্শনার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের সূর্যোদয়ের সময় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে জনসমাগম শুরু হলে মূল ফটক ও হেলিপ্যাড এলাকায় সারি সারি দোকান বসানো হয়। ভ্যানে আনা পসরা থেকে শুরু করে চটপটি-ফুসকা, ঝালমুড়ি, পিৎজা, বার্গার, স্যান্ডউইচ, চিকেন শর্মা, সানগ্লাসসহ নানা ধরনের সামগ্রী বিক্রির জন্য রাখা হয়। দোকানগুলোর আধিক্য ও জনসমাগমের কারণে দর্শনার্থীদের চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়।
মেয়েকে নিয়ে পুষ্পস্তবক দিতে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “এই প্রথম দেখছি স্মৃতিসৌধের ভেতরে এত দোকান বসেছে। ঢুকতেও কষ্ট হয়েছে।” নবীনগরের বাসিন্দা সজিব হাসান অভিযোগ করেন, “পুরো স্মৃতিসৌধ যেন ভাড়া দিয়ে দেওয়া হয়েছে দোকানদারদের কাছে। এটি অত্যন্ত বাজে বিষয়।”
দোকানদারদের সঙ্গে আলাপ করলে জানা যায়, কেউ কেউ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিয়েছে। এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা বলেন, “আমার কাছ থেকে বেশি টাকা নেয়া হয়নি, তবে বড় দোকানদারদের কাছ থেকে বেশি নেওয়া হয়েছে।” অন্য দোকানদারও একই বিষয় স্বীকার করেছেন।
গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আনু জানান, “দুইটি গেইট পুলিশ মেইনটেইন করছিল। পুলিশ যথেষ্ট সচেতন ছিল, দোকানগুলো প্রবেশ না করতেই হবে। তবে কেউ দেয়াল টপকিয়ে ঢুকেছে, আবার গেইট দিয়ে কিছু ঢুকেছে। আমরা চেষ্টা করছি বের করার।”
ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের মতে, বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধের মতো পবিত্র স্থানে চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়িক কার্যকলাপ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল।

































