ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সাবেক দুই এপিএসের সম্পদের হিসাব চাইল দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৪:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / 50

স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সাবেক দুই এপিএসের সম্পদের হিসাব চাইল দুদক

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সাবেক দুই ব্যক্তিগত কর্মকর্তা তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিষয়টি সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

দুদক সূত্র জানায়, দায়িত্ব পালনের সময় অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন, অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের উৎস ও বিস্তারিত বিবরণ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এর আগে দুদক তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সেখান থেকে প্রাপ্ত আয়-ব্যয়ের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব চেয়ে নতুন নোটিশ পাঠানো হয়।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে হিসাব না দিলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম সম্পর্কিত চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য ও সরবরাহ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানের সম্পদ যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এর আগে গত ২১ মে দুদক তুহিন ফারাবী, ডা. মাহমুদুল হাসান এবং এনসিপির বহিষ্কৃত যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদবির, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগে কমিশনের বিশেষ অনুসন্ধান শাখার কর্মকর্তারা রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাঁদের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

তুহিন ফারাবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দপ্তরে কর্মরত অবস্থায় প্রভাব খাটিয়ে তদবির, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁকে নিজের, স্ত্রী ও সন্তানদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, আয়করের নথি এবং ব্যাংক হিসাবের বিবরণী জমা দিতে বলা হয়েছিল।

ডা. মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধেও অনুরূপ অভিযোগ রয়েছে—ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের। তাঁকেও নিজের ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, আয়কর ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য জমা দিতে বলা হয়।

পরে গত ২৭ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন গালিব তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানের দেশত্যাগ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সাবেক দুই এপিএসের সম্পদের হিসাব চাইল দুদক

সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৪:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সাবেক দুই ব্যক্তিগত কর্মকর্তা তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিষয়টি সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

দুদক সূত্র জানায়, দায়িত্ব পালনের সময় অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন, অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের উৎস ও বিস্তারিত বিবরণ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এর আগে দুদক তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সেখান থেকে প্রাপ্ত আয়-ব্যয়ের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব চেয়ে নতুন নোটিশ পাঠানো হয়।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে হিসাব না দিলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম সম্পর্কিত চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য ও সরবরাহ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানের সম্পদ যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এর আগে গত ২১ মে দুদক তুহিন ফারাবী, ডা. মাহমুদুল হাসান এবং এনসিপির বহিষ্কৃত যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদবির, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগে কমিশনের বিশেষ অনুসন্ধান শাখার কর্মকর্তারা রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাঁদের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

তুহিন ফারাবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দপ্তরে কর্মরত অবস্থায় প্রভাব খাটিয়ে তদবির, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁকে নিজের, স্ত্রী ও সন্তানদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, আয়করের নথি এবং ব্যাংক হিসাবের বিবরণী জমা দিতে বলা হয়েছিল।

ডা. মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধেও অনুরূপ অভিযোগ রয়েছে—ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের। তাঁকেও নিজের ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, আয়কর ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য জমা দিতে বলা হয়।

পরে গত ২৭ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন গালিব তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানের দেশত্যাগ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।