স্বাভাবিক হয়নি পণ্য খালাস কার্যক্রম, ভোগান্তিতে আমদানিকারকরা
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
- / 214
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তিন দিনের মাথায় বিকল্প ব্যবস্থা চালু হলেও আমদানি পণ্য ছাড় ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এখনো সচল করা যায়নি পুড়ে যাওয়া আমদানি কার্গো ভিলেজের নেটওয়ার্কিং সিস্টেম। ফলে আমদানির মালামাল ছাড়ের আংশিক কার্যক্রম শুরু হলেও, তা চলছে বিমানের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ দিয়ে। এতে কার্যক্রম ধীরগতি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আমদানিকারক ও এজেন্টরা।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। তবে ডিজিটাল সিস্টেম বন্ধ থাকায় সীমিত পরিসরে কাজ চলছে।
এদিকে, সীমিত আকারে আমদানি পণ্য খালাসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রপ্তানি ভিলেজের পাশের একটি স্থান নির্ধারন করা হয়েছে। যা পুরোপুরি উন্মুক্ত। আর পন্য খালাসের পর তা বের হবে নয় নম্বর গেট দিয়ে।
এদিকে, আমদানি কার্যক্রম চালু করতে সোমবার বিকালে কাস্টমস হাউসে বৈঠকে বসে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কাস্টম কমিশনারের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেয় সিভিল এভিয়েশন, বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।
সভায় আমদানি কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে চালু করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জানানো হয়, জরুরি ভিত্তিতে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ আমদানি কার্গো এবং কুরিয়ার এর মালামালসমূহ রাখার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করবে। সেই স্থানে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আইন অনুয়ায়ী কায়িক পরীক্ষণ সম্পন্ন করবেন এবং যথাযথ প্রক্রিয়া ও শুল্ককর পরিশোধ সাপেক্ষে আপাততঃ ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ০৯ নম্বর গেইট দিয়ে পণ্য খালাস সম্পন্ন করবেন।
এদিকে, নিজস্বভাবে পন্য ছাড় করতে গিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ কাস্টমস এর সাথে সমন্বয় করতে পারছে না। তবে সার্ভার ফিরে পেলে তা আবার সমন্বয় করা হবে।
বেবিচক জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ শুরু করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং বেবিচকের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত সাত সদস্যের ওই কমিটি আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছে।
গত শনিবার দুপুরে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষসহ সব সংস্থার প্রায় নয় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। যা পুরোপুরি নেভাতে সময় লেগে যায় ২৪ ঘন্টারও বেশি।
এ ঘটনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানিকৃত বেশ কিছু বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় হাজার কোটি টাকার পণ্য পুড়ে যায়।
































