ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নিয়োগে স্বচ্ছতা ও সিলেকশন কমিটি

স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপির প্রস্তাব

সিনিয়র প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
  • / 208

নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশন কেবল সংবিধানে উল্লেখ থাকলেই হবে না, প্রয়োজন কার্যকর স্বাধীনতা; এমনটাই বলছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এই প্রস্তাবের মাধ্যমে , কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াতেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র ফলপ্রসূ হবে না।

বুধবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৮তম দিন শেষে গণমাধ্যমকে এ কথা জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, সংলাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে একটি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সিলেকশন কমিটি গঠনের প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী এই কমিটির সদস্য হবেন: জাতীয় সংসদের স্পিকার (সভাপতি), বিরোধী দলের নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন আপিল বিভাগের বিচারপতি।

এই কমিটি একটি সার্চ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। এতে নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণ নাম প্রস্তাব করতে পারবে। এই প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করে সার্চ কমিটি একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে, যেটি পাঠানো হবে সিলেকশন কমিটির কাছে। পরে এই কমিটি প্রতিটি পদের জন্য একটি করে নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।

বিএনপির প্রস্তাবে বলা হয়, সংসদে একটি আইন প্রণয়ন করে কমিশনের সদস্যদের জন্য আচরণবিধি ও জবাবদিহিতার কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে নতুন একটি উপধারা যুক্ত করার মাধ্যমে এই আইনগত কাঠামো তৈরি করা সম্ভব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির নেতা বলেন, “আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করা। আমরা ধরে নিচ্ছি, ভবিষ্যতের নির্বাচন সে রকম সরকারের অধীনেই হবে।” এ প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন কমিশন গঠনের যে প্রক্রিয়া চলমান, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সালাহউদ্দিন আহমেদ সংলাপে অংশ নেওয়া অন্য রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং সর্বসম্মত প্রস্তাবনা তৈরির জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান। তার মতে, এই সমঝোতা একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি করবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তারা সংবিধানে লেখা একটি নির্বাচন কমিশন নয়, বরং বাস্তবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম একটি কমিশন চায়। এই লক্ষ্যে তারা নির্দিষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আগামী নির্বাচনগুলোর বিশ্বস্ততা ও অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে তাদের আশা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নিয়োগে স্বচ্ছতা ও সিলেকশন কমিটি

স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপির প্রস্তাব

সর্বশেষ আপডেট ০৬:২৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

নির্বাচন কমিশন কেবল সংবিধানে উল্লেখ থাকলেই হবে না, প্রয়োজন কার্যকর স্বাধীনতা; এমনটাই বলছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এই প্রস্তাবের মাধ্যমে , কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াতেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র ফলপ্রসূ হবে না।

বুধবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১৮তম দিন শেষে গণমাধ্যমকে এ কথা জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, সংলাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে একটি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সিলেকশন কমিটি গঠনের প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী এই কমিটির সদস্য হবেন: জাতীয় সংসদের স্পিকার (সভাপতি), বিরোধী দলের নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান বিচারপতির মনোনীত একজন আপিল বিভাগের বিচারপতি।

এই কমিটি একটি সার্চ প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। এতে নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণ নাম প্রস্তাব করতে পারবে। এই প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করে সার্চ কমিটি একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে, যেটি পাঠানো হবে সিলেকশন কমিটির কাছে। পরে এই কমিটি প্রতিটি পদের জন্য একটি করে নাম রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।

বিএনপির প্রস্তাবে বলা হয়, সংসদে একটি আইন প্রণয়ন করে কমিশনের সদস্যদের জন্য আচরণবিধি ও জবাবদিহিতার কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে নতুন একটি উপধারা যুক্ত করার মাধ্যমে এই আইনগত কাঠামো তৈরি করা সম্ভব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ

বিএনপির নেতা বলেন, “আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করা। আমরা ধরে নিচ্ছি, ভবিষ্যতের নির্বাচন সে রকম সরকারের অধীনেই হবে।” এ প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচন কমিশন গঠনের যে প্রক্রিয়া চলমান, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সালাহউদ্দিন আহমেদ সংলাপে অংশ নেওয়া অন্য রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং সর্বসম্মত প্রস্তাবনা তৈরির জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান। তার মতে, এই সমঝোতা একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি করবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তারা সংবিধানে লেখা একটি নির্বাচন কমিশন নয়, বরং বাস্তবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম একটি কমিশন চায়। এই লক্ষ্যে তারা নির্দিষ্ট আইনি ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আগামী নির্বাচনগুলোর বিশ্বস্ততা ও অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে তাদের আশা।