প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি
স্বরাষ্ট্র ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 59
দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায় ও শাহবাগে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনঢ় অবস্থান নিয়েছেন তারা।
রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে তাদের এই কর্মসূচি শুরু হয়। এর ফলে দেশের সাড়ে ৬৫ হাজারেরও বেশি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ হয়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায় এক কোটি শিশু শিক্ষার্থী।
একইসঙ্গে ৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন না করে শাহবাগে শিক্ষকদের ওপর হামলা, রাবার বুলেট, জলকামান, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ। আজ রোববার সংগঠনের পক্ষে শিক্ষক নেতা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষকরা ১৫ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতিতে যাওয়ার কথা জানালেও, শনিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশের হামলার প্রতিবাদে তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মবিরতি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের হামলাসহ ৫ জন শিক্ষককে রাজধানীর শাহাবাগ থানায় ১৮ ঘণ্টা আটক করে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা আহত হয়েছেন, কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমরা সারাদেশে সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করেছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।
তিনি আরও জানান, দাবি আদায় না হলে প্রয়োজনে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলে তা কার্যকর হবে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ মুহূর্তে কর্মবিরতির কারণে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। বছরের এই সময়ে ক্লাস বন্ধ থাকলে বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হবে এবং শিখন ঘাটতি আরও বাড়বে।
তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে সরকার আশ্বাস দিয়েছে, দাবি বিবেচনায় আনা হচ্ছে।





































