ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্পিনিং মিল বন্ধের আশঙ্কায় ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৮:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 9

স্পিনিং মিলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে, ছবি সংগৃহিত

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় ২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৮ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। এতে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করে মিল চালু রাখতে জরুরি নীতিগত সহায়তার দাবি জানানো হয়েছে।

মিল মালিকদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পিনিং মিল বন্ধের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে বুধবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন এ শিল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।

লিখিত বক্তব্যে সালমা গ্রুপের সিওও আজহার আলী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ২২ জানুয়ারি মিল মালিকরা বন্ধের আলটিমেটাম দেন। এতে শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। মিল বন্ধ হলে ব্যাপক বেকারত্ব সৃষ্টি হবে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।

আজহার আলী বলেন, স্পিনিং খাত দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত বৈষম্য, অতিরিক্ত বন্ড সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে সংকটে রয়েছে। সমস্যা সমাধানে বিটিএমএ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সমন্বয়ে একটি কমিশন গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অন্তত দুই বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা প্রয়োজন। পাশাপাশি এফওসি সুবিধা ১৫-২০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার দাবি জানান। বর্তমানে ৫০ শতাংশ এফওসি সুবিধা থাকায় দেশীয় ব্যাকওয়ার্ড শিল্প মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ গ্রুপের পরিচালক এনামুল হক বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলো দ্রুত নীতিনির্ধারণ করলেও বাংলাদেশে দুই বছর ধরে সিদ্ধান্তহীনতা চলছে। এক মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয়কে দায়ী করায় শিল্পটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বন্ড সুবিধা আজীবনের জন্য চলতে পারে না। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সুতা আমদানি করে বাজারে ছাড়ায় স্থানীয় মিলগুলো বিপর্যস্ত হচ্ছে। অথচ দেশ ইতোমধ্যে ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

যমুনা গ্রুপের পরিচালক এবিএম সিরাজুল ইসলাম জানান, গত দুই বছর ধরে মিলগুলো মাত্র ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং লোকসান বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মালিকদের জন্য কারখানা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, একটি শিল্পকে দুর্বল করে অন্য শিল্পকে সুবিধা দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর। টেক্সটাইল ও পোশাক খাত পরস্পরের পরিপূরক হওয়ায় সমন্বিত নীতি জরুরি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানিকে কেন্দ্র করে পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক। ইতোমধ্যে মিল বন্ধ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং তিন সংগঠনের নেতাদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ, রুহুল আমিন আশিকসহ বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর নীতি, প্রণোদনা ও বন্ড সুবিধার যৌক্তিক সংস্কার না হলে স্পিনিং খাত বড় ধরনের ধসের মুখে পড়বে। এতে দেশের গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

স্পিনিং মিল বন্ধের আশঙ্কায় ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৮:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় ২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৮ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। এতে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করে মিল চালু রাখতে জরুরি নীতিগত সহায়তার দাবি জানানো হয়েছে।

মিল মালিকদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পিনিং মিল বন্ধের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে বুধবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন এ শিল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।

লিখিত বক্তব্যে সালমা গ্রুপের সিওও আজহার আলী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ২২ জানুয়ারি মিল মালিকরা বন্ধের আলটিমেটাম দেন। এতে শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। মিল বন্ধ হলে ব্যাপক বেকারত্ব সৃষ্টি হবে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে।

আজহার আলী বলেন, স্পিনিং খাত দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত বৈষম্য, অতিরিক্ত বন্ড সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে সংকটে রয়েছে। সমস্যা সমাধানে বিটিএমএ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সমন্বয়ে একটি কমিশন গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অন্তত দুই বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা প্রয়োজন। পাশাপাশি এফওসি সুবিধা ১৫-২০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার দাবি জানান। বর্তমানে ৫০ শতাংশ এফওসি সুবিধা থাকায় দেশীয় ব্যাকওয়ার্ড শিল্প মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ গ্রুপের পরিচালক এনামুল হক বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলো দ্রুত নীতিনির্ধারণ করলেও বাংলাদেশে দুই বছর ধরে সিদ্ধান্তহীনতা চলছে। এক মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয়কে দায়ী করায় শিল্পটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বন্ড সুবিধা আজীবনের জন্য চলতে পারে না। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সুতা আমদানি করে বাজারে ছাড়ায় স্থানীয় মিলগুলো বিপর্যস্ত হচ্ছে। অথচ দেশ ইতোমধ্যে ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

যমুনা গ্রুপের পরিচালক এবিএম সিরাজুল ইসলাম জানান, গত দুই বছর ধরে মিলগুলো মাত্র ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং লোকসান বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মালিকদের জন্য কারখানা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, একটি শিল্পকে দুর্বল করে অন্য শিল্পকে সুবিধা দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর। টেক্সটাইল ও পোশাক খাত পরস্পরের পরিপূরক হওয়ায় সমন্বিত নীতি জরুরি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানিকে কেন্দ্র করে পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক। ইতোমধ্যে মিল বন্ধ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং তিন সংগঠনের নেতাদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ, রুহুল আমিন আশিকসহ বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর নীতি, প্রণোদনা ও বন্ড সুবিধার যৌক্তিক সংস্কার না হলে স্পিনিং খাত বড় ধরনের ধসের মুখে পড়বে। এতে দেশের গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।