ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • / 236

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উত্থাপিত চারটি সংশোধনী আইন বৃহস্পতিবার অনুমোদন পেয়েছে।

দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি জানান, সংশোধনীর ফলে এখন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে না। সব প্রার্থী নির্বাচন করবেন নির্দলীয়ভাবে, অর্থাৎ স্বতন্ত্র পরিচয়ে।

এর আগে ১ জুলাই সংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর পরবর্তী ধাপে এটি লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের অনুমোদন নিয়ে গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে।

২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে চালু হয়। কিন্তু এরপর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে এ ব্যবস্থার সমালোচনা ও পরিবর্তনের দাবি ওঠে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন, সবাই দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার পক্ষে মত দেয়।

নতুন এই পরিবর্তনের ফলে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত নন, এমন অনেক যোগ্য ও স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিব জানিয়েছেন, ‘নৌকা’ বা অন্যান্য নিবন্ধিত দলের প্রতীকগুলো রয়ে যাবে, তবে সেগুলোর ব্যবহার কোনো প্রার্থী করতে পারবেন না।

জাতীয় নির্বাচনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে এমন গুঞ্জনের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এলো। বিএনপি এই সময় স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের বিরোধিতা করলেও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল আগে থেকেই স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছিল।

নতুন সংশোধনের মাধ্যমে দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বতন্ত্র অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করল সরকার।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক

সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উত্থাপিত চারটি সংশোধনী আইন বৃহস্পতিবার অনুমোদন পেয়েছে।

দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি জানান, সংশোধনীর ফলে এখন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে না। সব প্রার্থী নির্বাচন করবেন নির্দলীয়ভাবে, অর্থাৎ স্বতন্ত্র পরিচয়ে।

এর আগে ১ জুলাই সংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর পরবর্তী ধাপে এটি লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের অনুমোদন নিয়ে গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে।

২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে চালু হয়। কিন্তু এরপর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে এ ব্যবস্থার সমালোচনা ও পরিবর্তনের দাবি ওঠে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন, সবাই দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার পক্ষে মত দেয়।

নতুন এই পরিবর্তনের ফলে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত নন, এমন অনেক যোগ্য ও স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিব জানিয়েছেন, ‘নৌকা’ বা অন্যান্য নিবন্ধিত দলের প্রতীকগুলো রয়ে যাবে, তবে সেগুলোর ব্যবহার কোনো প্রার্থী করতে পারবেন না।

জাতীয় নির্বাচনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে এমন গুঞ্জনের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এলো। বিএনপি এই সময় স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের বিরোধিতা করলেও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল আগে থেকেই স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছিল।

নতুন সংশোধনের মাধ্যমে দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বতন্ত্র অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করল সরকার।