স্ত্রীর অভিযোগের জবাব দিলেন আবু ত্বহা আদনান
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
- / 190
রংপুরের আলোচিত ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর স্ত্রী সাবিকুন নাহারের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শুরু হয় আলোচনার ঝড়। তবে এ বিষয়ে চুপ থাকলেও আজ সোমবার আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান এক ফেসবুক পোস্টে স্ত্রীর অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
আবু ত্বহা তাঁর ফেসবুক পোস্টে শুরুতেই বলেন, “আমার প্রিয়তমা স্ত্রী সাবিকুন নাহার অল্প সময়ের ব্যবধানেই দুটি ফেসবুক পোস্ট করেছেন, দুটোই আমার প্রতি তাঁর অপার ভালোবাসার নিদর্শন।
হ্যাঁ, সে ভুল করেছে, ভুল বুঝেছে। তার ক্বলব জানে সে ভুল। হয়তো না বুঝেই সামান্য হলেও দ্বীনের ক্ষতি করে ফেলেছে। যদিও মহান আল্লাহর দ্বীন কোনো ব্যক্তি, কওম বা মুখাপেক্ষী নয়।
সে অনুতপ্ত হয়েছে, ক্ষমা চেয়েছে। এটাই যথেষ্ট।”
স্ত্রীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন,
“ওয়াল্লাহি আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।
এমনকি যদি তুমি ইমাম হাসানের ক্বাতেলের মতোও হতে তবুও আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিতাম। কারণ আমি তোমাকে এক আল্লাহর জন্য মুহাব্বত করি।
এটা সত্য যে বিগত চার বছরের সংসার জীবনে আমি অসংখ্যবার তোমার দ্বারা অসম্ভব রকমের আহত হয়েছি। কখনো বা ক্ষতবিক্ষত হয়েছি, একে অপরকে ছেড়ে দিতে চেয়েছি, আরেকটি বিয়ে করতে চেয়েছি ইত্যাদি, কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে আমার গুমের সাত দিনে তোমার যে অবদান—তার সামনে এসব নিতান্তই তুচ্ছ।
এই দেশে এমন কোনো নারীর জন্মই হয়নি যে সেই সাতটি দিনে শুধু আমার জন্য, আল্লাহর দ্বীনের জন্য একাই একটা মেয়ে হয়ে পাহাড়ের মতো লড়ে গেছে, বাতাসের বেগে ছুটে গেছে।
তবে তুমি মনে রেখো—আমার মা, পরিবার, আহলিয়া, মুহিব্বিন ভাইয়েরা যেভাবে আমাকে দ্বীনের পথে শক্তি জুগিয়েছে তা কেবলমাত্র খুশনসিবদের তাকদিরেই নসিব হয়। অথচ আমি নিজে মোটেই তার যোগ্য নই। আল্লাহ্ আমাকে যোগ্যতা দিন।”
স্ত্রী সাবিকুন নাহারকে কেউ যেন কটু কথা না বলে এ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আল্লাহর ওয়াস্তে আপনাদের কেউই ভুলেও তাকে কোনো প্রকার কটু কথা বলবেন না—একটা লাইনও না।
পাঁচ বছর ধরে আমাকে যথেষ্ট বলেছেন, আমাকেই বলে যান। আমি অভ্যস্ত।
আমি অভ্যস্ত রাম-বাম, সুশীল, তাগুত আর দ্বীনের দুশমন, জায়ন ও মুনাফিকদের কাছে ‘জঙ্গি’, ‘খারেজি’, ‘মৌলবাদী’ ইত্যাদি লকবে! আর আমি জানি—এগুলো স্রেফ তাদের গুনাহের পাল্লাই ভারী করবে।

আর আমি জানি, আমি হক্ব হয়ে থাকলে এগুলো হবে আমার পরীক্ষা বা গুনাহ মাফের কারণ। আর গিবত, অপবাদ আর সম্মানহানির এই প্ল্যাটফরম কাল কিয়ামতের মাঠে লক্ষ লক্ষ নাদান, বেদ্বীন, বে-আখলাকদের জন্য কেবলই আফসোস ও নেকি দানের মাধ্যম হবে—এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। কী জবাব দেবেন সেদিন? নিজেই বা কী জবাব দেব সেদিন?
আর আজ পড়েছি ইউসুফি ইমতিহানে! রব্বিগ ফিরলি। ফাসবরুন জামিল। ওয়াল্লাহুল মুস্তায়ান আলা মা তাসিফুন।”
নিজের মানহানি হয়েছে জানিয়ে ত্বহা বলেন, “একটু অবুঝ, অস্থির, অতিরিক্ত জেদি ও মুহাব্বতের পাগল হলেও তার ইলমি, দারসি, কিতাবি, তালিমি ও তাদরিসি যোগ্যতা এ দেশে খুব কম মেয়ের মাঝেই আছে।
আমি নিজেই তার কাছে সিফাত, তাজবিদ, উর্দু ও সফর শিখেছি। ভুলে যাইনি যে বিগত ফ্যাসিস্টের আয়নাঘরের যুগে তার এই অস্থির স্বভাবই আমাদের দেশব্যাপী গণজোয়ার, আমাদের দাওয়ার প্রসার ও কোটি মানুষের জবান ও কানে আমাদের দাওয়াতগুলো পৌঁছে দিয়েছিল।
বাকি পারিবারিকভাবে আমাকে দেওয়া কষ্ট ও আজকের আমার এই মানহানি, ভুল তথ্য প্রচার—এগুলোর জন্য আমি তার জন্য ক্ষমা ও উভয়ের ইসলাহের দুয়া করি। আল্লাহ্ পাক আমাদের ইসলাহের ওপর ইস্তিক্বমাহ নসিব করেন।”
এরপর তিনি কয়েকটি পয়েন্টে ব্যাখ্যা দেন—যেখানে ফোন হারানোর প্রসঙ্গ, স্ত্রী-সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝি, প্রতিষ্ঠানের হিসাব, নারী-পুরুষ মিশ্রণবিহীন পরিবেশ ও অনলাইন মাদ্রাসার পৃথক ক্লাসের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।
“আজ থেকে ১৫ বছর আগে আমি জাহেলিয়্যাতে ছিলাম—ভালো লেভেলের ক্রিকেটার ছিলাম, ইংলিশ পড়ুয়া পরিবেশের, গিটারিস্ট ও ব্যান্ডে ভোকাল ছিলাম, স্পোর্টসম্যান ছিলাম। বাবা বেঁচে থাকতে কওমি আলেমদের কাছে কুরআন ও দ্বীনিয়াত শিখতাম। তাঁর ইন্তেকালের পর জাহালাতে হারিয়ে যাই। আবার তাবলীগ দিয়ে দ্বীনে ফিরি। যা থেকে প্রায় ১৫ বছর হলো আমি আজ এখানে। তুমি যার কথা বলেছ তার নাম ভুল। এগুলো সুদূর অতীত।”
স্ত্রীর উদ্দেশে ত্বহা বলেন, “তুমি নিজেও জান যে আমি স্রেফ বিয়েতে বিশ্বাসী, তুমি নিজেই এর সাক্ষী! দ্বীনে ফিরে আমি দুজন নারীর দায়িত্ব নিয়েছি, এগুলোর কোনটাই লাভ ম্যারেজ না—সবই অ্যারেঞ্জ।
আর আমি আমার প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তোমাকে বিয়ে করিনি, আর তোমার অনুমতি ছাড়া অন্য কাউকে করিনি বা করতে চাইনি। দ্বীনি মেজাজের পবিত্র একটা হালাল সম্পর্ককে চলমান হারাম ও ব্যভিচারের মতো শব্দে উপস্থাপনটা কতটুকু সঠিক হয়েছিল—ভেবে দেখো।
ওয়াল্লাহি আমি তোমাকে অসম্ভব ভালোবাসি। আগেও বাসতাম, আজও বাসি, শাহাদাত অবদি বাসব ইনশাআল্লাহ্। আমি তোমার সাথে কোনো অন্যায় করিনি। যদি আমি হালাল কিছুও করতাম, জানিয়ে করতাম।”
শেষে তিনি বলেন, “কোনো কিছুর বিনিময়েও আমি তোমাকে হারাতে চাই না। আর এতকিছুর পরেও আমি তোমাকে ছেড়ে দেব না। যতই কষ্ট দাও, আর যতই অসম্মান করো, যতই ভুল বুঝো।
আজ অবদি আমার সাথে যা যা জুলুম ও অন্যায় হয়েছে, যে বা যারাই বুঝে না বুঝে যত কষ্টই দিয়েছে—আমি নিজের সাথে তাদের সবার জন্যেই ক্ষমা ও ইসলাহের দুয়া করি। মহান আল্লাহ্ এই ওয়াসিলায় আমাকে আমার কাঙ্ক্ষিত শাহাদাতের মওত নসিব করে দেন।”































