স্টেট ভিজিটে যুক্তরাজ্যে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 86
যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় স্টেট ভিজিটে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাজকীয় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পাশাপাশি এ সফরে প্রযুক্তি বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
রাজকীয় অভ্যর্থনা
মঙ্গলবার রাতে লন্ডনের স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ট্রাম্প, সঙ্গে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। বিদেশ সচিব ইয়েভেট কুপার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। রাত কাটান তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বাসভবন উইনফিল্ড হাউজে।
বুধবার উইন্ডসর ক্যাসেলে অনুষ্ঠিত হবে রাজকীয় অভ্যর্থনা। সেখানে রাজা চার্লেস, রানী কামিলা, প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস ক্যাথরিন অংশ নেবেন। থাকবে ২১ বার বন্দুক সালাম, সামরিক কুচকাওয়াজ ও রাজকীয় শোভাযাত্রা।
প্রযুক্তি চুক্তি ও বিনিয়োগ
সফরের শুরুতেই ঘোষণা করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ৪২ বিলিয়ন ডলারের প্রযুক্তি সহযোগিতা চুক্তি। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং পারমাণবিক শক্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুধু মাইক্রোসফটই যুক্তরাজ্যে প্রায় ২২ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। গুগলের মালিক প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটও আগেই ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের গবেষণা বিনিয়োগ পরিকল্পনা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, এ চুক্তি যুক্তরাজ্যে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
বাণিজ্য আলোচনায় শুল্ক ইস্যু
স্টিল রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ শুল্ক হ্রাসের আশা করেছিল যুক্তরাজ্য। তবে আলোচনার আগে এ পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, বাণিজ্য চুক্তি “আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে”।
নিরাপত্তা ও প্রতিবাদ
ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে ১,৩০০ সেনাসদস্যের অংশগ্রহণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উইন্ডসর ও চেকার্সের ভেতরে সব আয়োজন হওয়ায় সাধারণ মানুষ সরাসরি কোনো অনুষ্ঠান দেখতে পারবে না।
অন্যদিকে, উইন্ডসর ক্যাসেলে ট্রাম্প ও জেফরি এপস্টেইনের ছবি প্রক্ষেপণ করে বিক্ষোভ দেখান কিছু প্রতিবাদকারী। পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।
সফরের তাৎপর্য
বিশেষ সম্পর্ক (Special Relationship) হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্য–যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজকীয় আভিজাত্য আর প্রযুক্তি ও বাণিজ্য চুক্তির সমন্বয়ে এটি দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।




































