সৌদি শ্রম চুক্তি ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে, সতর্ক করলেন উপদেষ্টা
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
- / 225
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের মধ্যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তাঁর ভাষ্য, আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে।
শনিবার (২ আগস্ট) ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
ড. আসিফ বলেন, “এ ধরনের শ্রমচুক্তি এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনও হয়নি, না ভারতের সঙ্গে, না পাকিস্তানের সঙ্গে। এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আরও নিশ্চিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। আগের সরকার একাধিকবার চেষ্টা করেও এমন একটি চুক্তি করতে পারেনি।”
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তিনি বলেন, “গত বছর অনেক কর্মীর টিকিট ও ভিসা থাকলেও তারা যেতে পারেননি। এখন তাদের পুনরায় পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে যখন ঢাকায় ফিরে এসে জানাই, মালয়েশিয়া আবার কর্মী নিচ্ছে; তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আমাকে কটাক্ষ করেন। অথচ এটা ছিল একটি বড় সাফল্য।”
তিনি জানান, “মন্ত্রণালয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হয়েছে। কার্যক্রম সহজ করা হয়েছে, অনেক কিছু ডিজিটালাইজ করা হয়েছে যাতে প্রবাসীরা সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন। এসব পরিবর্তনের প্রভাব আগত সময়ে আরও বেশি বুঝতে পারবেন।”

বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখা নাগরিকদের উদ্দেশে ড. আসিফ বলেন, “বিদেশ যাওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করে যান। কে পাঠাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাসযোগ্য কি না; এসব খোঁজ না নিয়ে যাওয়ার মানে ভবিষ্যৎ বিপদকে আমন্ত্রণ জানানো। আমি নিজে সৌদি আরব গিয়ে এমন অবস্থাও দেখেছি যেখানে জীবন যাপন বাংলাদেশের বস্তির চেয়েও কঠিন।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ ৮-৯ লাখ টাকা খরচ করে এমন একটি জীবনযাত্রার দিকে যায়, যা মোটেও কাম্য নয়। আমার পরামর্শ হলো, যদি আপনার কাছে ১০ লাখ টাকা থাকে, তাহলে দেশে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করা যায়। বাংলাদেশের মতো দেশে একটা ছোট দোকান দিয়েও আয় সম্ভব। আমি আপনাদের নিরুৎসাহিত করছি না, বরং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঝুঁকতে নিষেধ করছি।”
ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, “বিদেশগামীদের ৯৯ শতাংশ সৎ ও পরিশ্রমী। কিন্তু মাত্র ১ শতাংশ লোক এমন কাজ করে বসে, যার কারণে পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। বিদেশে এসব সমস্যার কারণে নতুন শ্রমিক পাঠানোও কঠিন হয়ে যায়।”
































