সৌদি-পাকিস্তানের সামরিক চুক্তি; উদ্বেগে ভারত
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 98
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ করমর্দন করছেন। ছবি: সৌদি প্রেস এজেন্সি
সৌদি আরব ও পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বুধবার রাতে হওয়া এ চুক্তি দু’দেশের কয়েক দশকের পুরোনো নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের কাতারে বিমান হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণ নড়িয়ে দিয়েছে।
গালফের আরব রাষ্ট্রগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপত্তার নির্ভরযোগ্য গ্যারান্টর হিসেবে কতটা ভরসা করা যায়, তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের সম্প্রসারণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
শুধু তাই না; এই চুক্তির চুলচেরা বিশ্লেষন শুরু করেছে পাকিস্তানের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র ভারত। ভারতের দৃষ্টিতে এ ঘটনাটি কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় নয়; বরং এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দিল্লির নিরাপত্তায়।
চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এক জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা জানান, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যেখানে সামরিক সহযোগিতার সব দিক অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ কেবল প্রচলিত অস্ত্র নয়, সব ধরনের সামরিক সহায়তা এর আওতায় আসবে।
পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। একইসঙ্গে ইসলামী বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেনাবাহিনীও তাদের। পাকিস্তান বরাবরই বলেছে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কেবল ভারতকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে তৈরি।
চুক্তির তাৎপর্য হলো—“ যে কোনো দেশ যদি সৌদি আরব বা পাকিস্তানের ওপর আক্রমণ চালায়, তবে সেটি উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।”
ভারতের কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানকে আরও সাহসী করে তুলতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও ছিলেন।
সৌদি-পাকিস্তান সম্পর্ক ধর্মীয় বন্ধন, কৌশলগত স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নির্ভরতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানি সেনারা সৌদি আরবে অবস্থান করছে এবং সেখানে বিভিন্ন সামরিক খাতে সহায়তা দিয়ে আসছে। বর্তমানে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার পাকিস্তানি সেনা সৌদিতে মোতায়েন রয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি তারা পাকিস্তানকে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দিয়েছে, যা পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।
তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ভারত বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়ে দিয়েছেন, দিল্লি এর প্রভাব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিকটি খতিয়ে দেখবে।
সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও বর্তমানে অত্যন্ত ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং তারা এই ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়। তবুও দিল্লি মনে করছে এতে সূক্ষ্ম ভারসাম্যের খেলা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি–ভারত সম্পর্ক বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক চুক্তি ভারতের কাছে সতর্ক সংকেত।
উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তান স্বাধীনতার পর থেকে তিনটি বড় যুদ্ধ করেছে। তবে উভয়ের পারমাণবিক অস্ত্র হাতে আসার পর বড় যুদ্ধ আর হয়নি, কারণ পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি সবসময় তাদের সীমিত রেখেছে।
ইসরায়েলের কাতার হামলার পর আরব বিশ্বের নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এ অবস্থায় সৌদি যদি পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তবে তা ভারতকে দ্বিমুখী চাপের মুখে ফেলতে পারে। একদিকে পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতা, অন্যদিকে সৌদির সঙ্গে তাদের জোটবদ্ধ অবস্থান।
তথ্য সূত্র: রয়টার্স



































