ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সৌদি ইরানের বিরুদ্ধে আকাশ ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবেনা

আন্তার্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 9

মোহাম্মদ বিন সালমান ও মাসুদ পেজেশকিয়ান

ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের আকাশপথ বা ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না। সৌদি যুবরাজ ও দেশটির কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান এই অবস্থানের কথা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে সরাসরি জানিয়েছেন।

দুই নেতার মধ্যে সাম্প্রতিক টেলিফোন আলাপে যুবরাজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সৌদি আরব সংঘাত নয়, বরং আলোচনার পথকেই অগ্রাধিকার দেয়। পারস্পরিক মতবিরোধ থাকলেও তা কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানের পক্ষ থেকেও একই ধরনের সুর শোনা গেছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত কাঠামোর ভেতরে থেকে যে কোনো উদ্যোগ যুদ্ধ এড়াতে সহায়ক হলে তা বিবেচনায় নিতে প্রস্তুত তেহরান।

সৌদি আরবের এই ঘোষণার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে তারা তাদের আকাশসীমা কিংবা জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সামরিক তৎপরতায় পরিস্থিতি আরও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি বড় বহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি যেন সেখানে গড়াতে না হয়, সে প্রত্যাশাই তার।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বিমানবাহী রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানে চলমান অস্থিরতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির অভিযোগ নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

সব মিলিয়ে, ইরান ঘিরে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সৌদি ইরানের বিরুদ্ধে আকাশ ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবেনা

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের আকাশপথ বা ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না। সৌদি যুবরাজ ও দেশটির কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান এই অবস্থানের কথা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে সরাসরি জানিয়েছেন।

দুই নেতার মধ্যে সাম্প্রতিক টেলিফোন আলাপে যুবরাজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সৌদি আরব সংঘাত নয়, বরং আলোচনার পথকেই অগ্রাধিকার দেয়। পারস্পরিক মতবিরোধ থাকলেও তা কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানের পক্ষ থেকেও একই ধরনের সুর শোনা গেছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত কাঠামোর ভেতরে থেকে যে কোনো উদ্যোগ যুদ্ধ এড়াতে সহায়ক হলে তা বিবেচনায় নিতে প্রস্তুত তেহরান।

সৌদি আরবের এই ঘোষণার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে তারা তাদের আকাশসীমা কিংবা জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সামরিক তৎপরতায় পরিস্থিতি আরও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি বড় বহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি যেন সেখানে গড়াতে না হয়, সে প্রত্যাশাই তার।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বিমানবাহী রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানে চলমান অস্থিরতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির অভিযোগ নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

সব মিলিয়ে, ইরান ঘিরে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।