সৌদি আরব–ইয়েমেন সীমান্তে তীব্র লড়াই
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 80
সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী ইয়েমেনের হারদামাউত প্রদেশে তীব্র লড়াই ও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় এই প্রদেশটি গত ডিসেম্বরের শুরুতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) দখল করে নেয়। এরপর থেকেই সৌদি আরব তাদের হারদামাউত ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল, তবে সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি গোষ্ঠীটি।
এমন প্রেক্ষাপটে শুক্রবার হারদামাউতকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত থেকে মুক্ত করতে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন প্রদেশটির গভর্নর। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসটিসির অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় সৌদি আরব।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি সীমান্তবর্তী হওয়ায় হারদামাউত নিয়ে শুরু থেকেই উদ্বিগ্ন ছিল রিয়াদ। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উপস্থিতিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছিল সৌদি আরব। গত সপ্তাহে প্রদেশটির গুরুত্বপূর্ণ মুকুল্লা বন্দরে প্রথম দফা বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
দক্ষিণ ইয়েমেনের এই প্রদেশটি এতদিন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে এসটিসি অঞ্চলটি দখল করে দেশটিকে বিভক্ত করে পুরো দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করছে। এ ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের সহায়তা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই মধ্যে ইয়েমেন সরকার গত বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। সৌদি আরব এ সিদ্ধান্তে সমর্থন জানায়। পরে আমিরাত তাদের সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
এসটিসির হারদামাউত অঞ্চলের এক নেতা জানিয়েছেন, সৌদি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কয়েক ডজন। পাশাপাশি স্থল হামলার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর জবাবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় এসটিসির যোদ্ধারা। এতে পুরো এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের বলেন, সরাসরি সামরিক অভিযান শুরুর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে এসটিসির সঙ্গে আলোচনা চালানো হয়েছিল। তবে আলোচনায় তারা কোনো সদিচ্ছা দেখায়নি। বরং হারদামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।
এদিকে রয়টার্স জানায়, সৌদি আরবের একজন প্রতিনিধিকে বহনকারী একটি বিমান ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পায়নি। এ ঘটনায় সৌদি রাষ্ট্রদূত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে ইয়েমেন ইস্যুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।





































