সেন্টমার্টিনে রাতযাপনের সুযোগ, মানতে হবে যেসব শর্ত
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:০১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 171
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন নৌরুটে আবারও যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বীপে রাত্রিযাপনেরও অনুমতি মিলছে। তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকই দ্বীপে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং পরদিন বিকেল ৩টায় দ্বীপ থেকে ফিরে আসবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পর্যটকরা এই সুযোগ পাবেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম জানান, এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন—এই চারটি জাহাজ এই রুটে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। তিনি আরও জানান, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় সরকারের দেওয়া ১২ নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। নিরাপত্তার কারণে টেকনাফ নয়, বরং নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকেই সব জাহাজ যাতায়াত করবে।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নভেম্বর মাসে রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় পর্যটকদের আগ্রহ কমে যায় এবং জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকে। তবে ডিসেম্বর থেকে টানা দুই মাস রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকায় পর্যটকরা ইতিমধ্যে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে পারবেন না। এ কারণে কক্সবাজার জেটিঘাট ও সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে আলাদা তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এর আগে ২২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্টমার্টিনে দায়িত্বশীল ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ১২ দফা নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনাগুলোর মূল দিকগুলো হলো—
সেন্টমার্টিন ভ্রমণের নতুন ১২ নির্দেশনার সারাংশ
বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না।
পর্যটকদের অবশ্যই ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েবসাইট থেকে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।
নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে; রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ।
ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের অনুমতি থাকবে; ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
দৈনিক সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সীমা কঠোরভাবে মানতে হবে।
দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো বা শব্দ সৃষ্টি নিষিদ্ধ; বারবিকিউ আয়োজনও করা যাবে না।
কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বেচাকেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কাছিম, পাখি, রাজকাঁকড়া, শামুক–ঝিনুকসহ সব জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
সৈকতে মোটরসাইকেল, সি–বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
পলিথিন বহন করা যাবে না; একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার নিরুৎসাহিত।
পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতে, এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে মানলে সেন্টমার্টিনের নাজুক পরিবেশ ও অনন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্ভব হবে এবং দ্বীপটি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
































