সীমান্তে পচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৪:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
- / 80
বাংলাদেশে আমদানি বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানিকারীরা। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলায় প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ পচে যাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জানা গেছে, দু’মাস আগেও বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল। তখন মালদহ জেলার মাহাদিপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে যেত। সেই আশায় মালদহের ব্যবসায়ীরা প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন। হিলির ব্যবসায়ীরা আরও ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন।
কিন্তু এখন বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাড়তি ক্ষতি এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী পানির দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্ত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ টাকা ৭৩ পয়সা) এবং ৫০ কেজির একটি বস্তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩৬ টাকা)। মালদহের স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০–২২ রুপিতে, শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে মাহাদিপুরে চলছে এই অবস্থা।
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারীরা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের মৌখিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তারা পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন। কিন্তু এখন বাংলাদেশি আমদানিকারকরা সেই পেঁয়াজ নিচ্ছেন না।
মাহাদিপুর সীমান্তের ব্যবসায়ী মোহম্মদ রুবেল হোসেন জানান, “বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির বরাত পেয়ে আমরা মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পেঁয়াজ নিয়ে আসি। কিন্তু বন্দরে আসার পর হঠাৎ জানতে পারি, বাংলাদেশে আর পেঁয়াজ রপ্তানি করা যাবে না। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে সেই পেঁয়াজ পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
যদিও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঘোজাডাঙ্গা ও পেট্রাপোল স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা কম পেঁয়াজ মজুত করেছেন, ফলে তারা কিছুটা রেহাই পেয়েছেন।
মালদহের রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশি আমদানিকারক-ব্যবসায়ীরা একটি নোটিশ জারি করেছেন। নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত কৃষ্টি সম্প্রসারণ বিভাগ সাময়িকভাবে ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। তারপর থেকে এই পরিস্থিতি চলছেই।
পশ্চিমবঙ্গের রপ্তানীকারকদের সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সপোর্টার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির মহাসচিব উজ্জল সাহা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিলেনিয়াম পোস্টকে বলেছেন, “বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানিতে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করেছেন। রপ্তানি বন্ধ থাকায় সীমান্তে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২ রুপিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটা এক অকল্পনীয় লোকসান। যদি শিগগিরই সীমান্ত খোলা না হয়, অনেক রপ্তানিকারক সর্বস্বান্ত হয়ে যাবেন।”































