সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিপাকে ইসি
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
- / 69
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন সীমানা নির্ধারণের প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। অনেক এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
গত রোববার ইসিতে প্রথম দিনের শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সামনে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে, যা কমিশনের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
৩০ জুলাই ইসি ৩৯টি সংসদীয় আসনে সীমানার ছোটখাটো পরিবর্তনের খসড়া প্রকাশ করে। এর মধ্যে গাজীপুরে একটি আসন বৃদ্ধি এবং বাগেরহাটে একটি আসন কমানো হয়। নতুন প্রস্তাবে বাগেরহাটে আসন তিনটি এবং গাজীপুরে ছয়টি হবে। রাজধানী ঢাকার ছয়টি আসনও এতে রাখা হয়েছে। খসড়া প্রকাশের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লাসের পাশাপাশি ক্ষোভ ও বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
১০ আগস্ট পর্যন্ত প্রস্তাবিত ৩০০ আসনের জন্য দাবি-আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হয়। এতে ৮৩টি আসনে মোট ১,৭৬০টি দাবি-আপত্তির আবেদন আসে। প্রথম দিনের শুনানিতে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন আসনের দাবি-আপত্তি বিষয়ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানির সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজয়নগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন (বুধস্তি, চান্দুয়া ও হরষপুর) আসনে সংযোজন নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “আমরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আইন অনুযায়ী খসড়া সীমানা নিয়ে দাবি-আপত্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এখন যৌক্তিক বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।”
বিপক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা মন্তব্য: বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, শুনানিতে তাদের ওপর হামলা হয়েছে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব বিষয়টি ‘তর্কবিতর্ক’ বলে খারিজ করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা মো. আতাউল্লাহও রুমিন ফারহানার ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছেন।
বিক্ষোভ ও আন্দোলন:ইসির খসড়া সীমানা পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের মধ্যে বিজয়নগর অখণ্ড রাখার দাবিতে আন্দোলন ও মহাসড়ক অবরোধ হয়।

বাগেরহাটে চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে জেলাজুড়ে সড়ক অবরোধ ও হরতাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, “আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।”
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সীমানা অপরিবর্তিত রাখার দাবিতে কেশবপুর উপজেলা বিএনপি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করেন। সংসদীয় আসনটির সাধারণ ভোটাররাও উপস্থিত ছিলেন।
সংক্ষিপ্তভাবে, সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
































