সিলেটের পর্যটনস্পটে উপচে পড়া ভিড়
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫
- / 601
ঈদুল আজহার লম্বা ছুটিতে সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজারো পর্যটক ছুটে এসেছেন পাহাড়, নদী আর চা-বাগানের লীলাভূমি এই অঞ্চলে। জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, লালাখাল, লোভাছড়া, সাদা পাথরসহ প্রতিটি জনপ্রিয় পর্যটনস্পটে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।
ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকা, লাক্কাতুরা ও মালনিছড়া চা-বাগান, শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার, আলী আমজাদের ঘড়ি, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান, হামহাম ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য, বাইক্কাটিলা, নীলাদ্রি লেকসহ প্রায় সব দর্শনীয় স্থান।
রোববার (৮ জুন) বিকেলে লাক্কাতুরা, মালনিছড়া, তারাপুরসহ বিভিন্ন চা-বাগানে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের ভিড়। সবুজে মোড়ানো পাহাড়-টিলা আর ঢেউখেলানো চা-বাগানে বিমোহিত অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন।
কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক ফাহিমা আক্তার বলেন, “এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এতদিন শুধু ছবিতে দেখেছি। বাস্তবে এসে অভিভূত হয়েছি। বিশেষ করে সাদা পাথরে নদীর পানিতে গোসল করে খুব ভালো লেগেছে।”
ঢাকা থেকে আসা সোমা বলেন, “ব্যস্ত জীবনের মাঝে পরিবার নিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি আসতে পেরে ভালো লাগছে। গরম একটু বেশি, তবে পানিতে নেমে স্বস্তি পেয়েছি।”
রংপুর থেকে ঘুরতে আসা সোহেল আহমদ বলেন, “সাদাপাথরের ধলাই নদীর শীতল পানি মনকে চাঙ্গা করে দিয়েছে। তবে নৌকা ভাড়া কিছুটা বেশি মনে হয়েছে।”
জাফলংয়ে ঘুরতে আসা পার্থ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে এখানে এসেছি। খুব ভালো লাগছে, কিন্তু পর্যটকদের জন্য উন্নত ওয়াশরুমসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন।”
সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা—গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানিগঞ্জ, জৈন্তাপুরেও ঈদের ছুটিতে ব্যাপক পর্যটকের উপস্থিতি দেখা গেছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। জাফলং জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের ওসি মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি।”
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, “ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে।”


































