মৃত্যুর আগের দিন
সামিরা রুমে ঢুকেই সালমান-শাবনূরকে একসঙ্গে দেখেন
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
- / 109
চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলায় তার স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঢালিউডের কিংবদন্তির অকালমৃত্যুর রহস্য আজও পুরোপুরি উদঘাটিত হয়নি। মৃত্যুর আগের দিন তিনি কীভাবে সময় কাটিয়েছিলেন, তা নিয়েও দর্শকদের মনে প্রশ্ন থেকেই গেছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর আগের দিন অর্থাৎ ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। সেদিন শুক্রবার ছিল। সালমান সারা দিনই ব্যস্ত ছিলেন নতুন ছবি প্রেম পিয়াসী-এর ডাবিং নিয়ে, যা চলছিল এফডিসির সাউন্ড কমপ্লেক্সে।
সেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহ-অভিনেত্রী শাবনূর। শুটিং স্পটজুড়ে ছিল হাসিঠাট্টা ও খুনসুটিতে ভরা পরিবেশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুপুরের দিকে সালমান শাহ তার বাবাকে ফোন করে অনুরোধ করেন, তার স্ত্রী সামিরাকে এফডিসিতে নিয়ে আসার জন্য। কিছুক্ষণের মধ্যে শ্বশুর সামিরাকে সঙ্গে নিয়ে সাউন্ড কমপ্লেক্সে পৌঁছান।
সেখানে ঢুকেই সামিরা দেখেন, সালমান ও শাবনূর ডাবিং রুমে মজা করছেন। তখন প্রকাশিত বিনোদন পত্রিকাগুলোতে দুজনকে নিয়ে লেখা গুঞ্জন সামিরার মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কিছুক্ষণ পর দ্রুত এফডিসি থেকে বেরিয়ে আসেন।
সালমানের বাবা চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সামিরা গাড়িতে ওঠেন, আর বিষয়টি বুঝতে পেরে সালমান ও পরিচালক বাদল খন্দকারও একই গাড়িতে বসেন। তবে পুরো পথই সামিরা সালমানের সঙ্গে কথা বলেননি। বাদল খন্দকার চেষ্টা করলেও দুজনের মধ্যে কোনো কথোপকথন সম্ভব হয়নি।
গাড়ি যখন এফডিসির মূল ফটকে পৌঁছায়, সালমান গাড়ি থেকে নেমে কিছুক্ষণ গেটের সামনে আড্ডা দেন। পরে আবার ডাবিং রুমে ফিরে গেলেও সেদিন আর কোনো কাজ হয়নি।
রাত ১১টার দিকে বাদল খন্দকার সালমানকে তার নিউ ইস্কাটন রোডের ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেন। তারপরই যেন সবকিছু থেমে যায়। পরদিন সকালেই ছড়িয়ে পড়ে সালমান শাহর মৃত্যুর খবর।
পরিচালক শাহ আলমসহ ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে সালমান প্রবল মানসিক চাপে ছিলেন। পারিবারিক টানাপড়েন, প্রযোজকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং শিল্পী সমিতির নিষেধাজ্ঞা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছিল।
সালমান শাহ মাত্র চার বছরে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢালিউডে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। তার মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে রহস্যময় মৃত্যুর তদন্ত আবারও শুরু হয়েছে।
































