সাভার পৌরসভায় দুর্নীতি: কৃষিজীবীর সন্তানের সম্পদের পাহাড়
- সর্বশেষ আপডেট ০২:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 87
সাভার পৌরসভার সহকারি লাইসেন্স পরিদর্শক আমজাদ হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কৃষিজীবী বাবার সন্তান আমজাদ ইতোমধ্যেই দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন টাকার পাহাড়।
আমজাদ হোসেন মোল্লা সহকারি লাইসেন্স পরিদর্শক পদে সাভার পৌরসভায় ১৯৯৫ সালের ১০ ডিসেম্বর যোগদান করে কাজ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কখনো আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতা, আবার সরকার পতনের পর জামায়াত সমর্থিত এক সাবেক কাউন্সিলরের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে তিনি নিজের অবস্থান অটুট রাখেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এই কৌশলের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন প্রভাবশালী থেকে যান।
২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সাভার পৌর মেয়র হন আব্দুল গনি। তারপর আব্দুল গনি ছেলে তুহিন সকল দুর্নীতি ও অনিয়মের কাজের দায়িত্ব দেন আমজাদ হোসেন মোল্লাকে। এরপর থেকে আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে সাভার পৌর সভায় গড়ে তুলেন দুর্নীতির আখড়া হিসেবে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাভার পৌরসভায় দুর্নীতি ও অনিয়ম করে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা।
বর্তমানে আমজাদ হোসেন লাইসেন্স পরিদর্শকের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। পরিদর্শকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে হয়ে উঠেন আরো বেপরোয়া। আমজাদের বেপরোয়া দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের কারনে সাভার পৌরসভা দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর থেকে আর তাকে কখনো ফিয়ে তাকাতে হয়নি। দুর্নীতি অনিয়ম ও ঘোষ বাণিজ্য করে নামে বেনামে সাভার আশুলিয়ায় অঢেল সম্পত্তির মালিন বনে গেছেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে নিয়মিত ঘুষ আদায় করেন তিনি। শুধু তাই না; ঘুষ না দিলে- ফাইল আটকে রাখা, নবায়নে অকারণ বিলম্ব, বারবার কাগজপত্রে আপত্তি- এসবই তার নিত্যদিনের অভিযোগ।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আমজাদ হোসেন সাভারের জামায়াত সমর্থিত এক সাবেক কাউন্সিলরের শালা পরিচয়ে আগের অবস্থানে ফিরে আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে আগস্টে সাভার পৌরসভায় ঘুষ বাণিজ্যের টাকা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সবই চলছে আমজাদ হোসেনের গড়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভার পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান, আমজাদ হোসেন তার পদের অপব্যবহার করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। দুর্নীতি ও অনিয়ম করে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। নিজ নামে ও স্ত্রীর নামে সাভার ও আশুলিয়ায় গড়ে তোলেছেন সম্পদের পাহাড়। তার ভয়ে সাভার পৌরসভার কর্মচারীরা সবসময় ভীত সন্ত্রস্ত থাকে।
তার ভয়ে অনেক কর্মচারী প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পান না। তার প্রভাবের কারণে লাইসেন্স শাখায় স্বাভাবিক প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে- এমন অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের টাকায় আশুলিয়ায় ২৬ শতক জমির উপর ৩ কোটি টাকার ব্যয়ে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ী নির্মান ও ৪০টি ঘর নির্মান করে ভাড়া দিয়েছেন, এফ-৮২/৫, জমজম টাওয়ার, ব্যাংক কলোনিতে রয়েছে তিনটি ফ্ল্যাট যার আনুমানিক মুল্য ২ কোটি টাকা। শুধু তাই নয় সাভারে বিভিন্ন শপিং মলে তার স্ত্রীর নামে রয়েছে একাধিক দোকান।
অভিযোগের বিষয়ে আমজাদ হোসেন মোল্লা বাংলা অ্যাফেয়ার্স-কে জানান, তার বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে; সেগুলো সঠিক নয়। তবে সাবেক মেয়রের ছেলে তুহিনের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন। এছাড়া জামায়াত নেতা তার ভগ্নিপতি বলেও জানান তিনি। তবে তাদের কারো মাধ্যমে তিনি কোন ক্ষমতা প্রদর্শন কিংবা দুর্নীতির আশ্রয় নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের এবং স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, এসবই তার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে তাদের বেশকিছু জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল; সেখান থেকে পাওয়া অর্থ দিয়েই তিনি সম্পদ গড়েছেন। তবে তিনটি ফ্ল্যাট না; তার নিজের নামে একটা এবং স্ত্রীর সাথে যৌথভাবে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া আশুলিয়ায় অবস্থিত ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের চানগাঁও এলাকায় ৩৭টি সিনশেড রয়েছে। যেগুলো ভাড়া দেওয়া। তবে সেগুলো নির্মাণে কত টাকা খরচ হয়েছে; তা জানতে চাইলে তিনি ভুলে গেছে বলে জানান।




































