ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাভারে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 288

সাভারে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা

সাভারে তথ্য সংগ্রহের সময় দেশ টিভির ঢাকা জেলা প্রতিনিধি ও সাভার উপজেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমন এবং ক্যামেরা পার্সন জাহিদুল ইসলাম খান সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে আলমননগর সেটেলমেন্ট অফিসে দুর্নীতির বিষয়ক তথ্য সংগ্রহের সময় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অফিসের পেশকার মো. শফিকের বক্তব্য নেওয়ার সময় হঠাৎ অফিস চত্বরের ভেতরে থাকা একদল ব্যক্তি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. সাইফুল ইসলামের নির্দেশে হামলাকারীরা মব তৈরি করে এ আক্রমণ চালায়। এতে দেওয়ান ইমন শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হন এবং জাহিদুল ইসলামের ক্যামেরা ভাঙার চেষ্টা করা হয়।

হামলার পর অন্যান্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা অফিস দ্রুত বন্ধ করে আত্মগোপন করেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তারা মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে রায় পছন্দমতো দেন এবং বিলম্ব ও নানা ধরনের হয়রানি করেন।

একজন জমির মালিক রফিক অভিযোগ করেন, “শফিক আমার পক্ষে রায় ঠিক করার জন্য ২৬ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। এখন হামলার পর ফোন বন্ধ, টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো উপায় নেই।”

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ অফিসে ভূমি সংক্রান্ত প্রতারণা, পক্ষপাতমূলক রায় প্রদান ও দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন চলছিল। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালানো হয়েছে।

এ ঘটনায় সাভার উপজেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে পেশকার সাইফুল ও শফিকসহ সকল হামলাকারীর গ্রেপ্তারের অনুরোধ করেছে।

দেওয়ান ইমন বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকের সাংবিধানিক অধিকার। সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশে হামলা চালানো হচ্ছে—এটি মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

সাভার মডেল থানায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পেশকার শফিক, উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার সোহেল আহমেদসহ অজ্ঞাত ১৫–২০ জন হামলায় অংশ নিয়েছেন। তারা চেয়ারের আঘাত, অকথ্য গালিগালাজ, ক্যামেরা ভাঙচুরের চেষ্টা এবং মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি প্রদান করেছেন।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলি জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাভারে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা

সর্বশেষ আপডেট ১০:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

সাভারে তথ্য সংগ্রহের সময় দেশ টিভির ঢাকা জেলা প্রতিনিধি ও সাভার উপজেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমন এবং ক্যামেরা পার্সন জাহিদুল ইসলাম খান সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে আলমননগর সেটেলমেন্ট অফিসে দুর্নীতির বিষয়ক তথ্য সংগ্রহের সময় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অফিসের পেশকার মো. শফিকের বক্তব্য নেওয়ার সময় হঠাৎ অফিস চত্বরের ভেতরে থাকা একদল ব্যক্তি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. সাইফুল ইসলামের নির্দেশে হামলাকারীরা মব তৈরি করে এ আক্রমণ চালায়। এতে দেওয়ান ইমন শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হন এবং জাহিদুল ইসলামের ক্যামেরা ভাঙার চেষ্টা করা হয়।

হামলার পর অন্যান্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা অফিস দ্রুত বন্ধ করে আত্মগোপন করেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তারা মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে রায় পছন্দমতো দেন এবং বিলম্ব ও নানা ধরনের হয়রানি করেন।

একজন জমির মালিক রফিক অভিযোগ করেন, “শফিক আমার পক্ষে রায় ঠিক করার জন্য ২৬ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। এখন হামলার পর ফোন বন্ধ, টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো উপায় নেই।”

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ অফিসে ভূমি সংক্রান্ত প্রতারণা, পক্ষপাতমূলক রায় প্রদান ও দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন চলছিল। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালানো হয়েছে।

এ ঘটনায় সাভার উপজেলা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে পেশকার সাইফুল ও শফিকসহ সকল হামলাকারীর গ্রেপ্তারের অনুরোধ করেছে।

দেওয়ান ইমন বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকের সাংবিধানিক অধিকার। সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশে হামলা চালানো হচ্ছে—এটি মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

সাভার মডেল থানায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পেশকার শফিক, উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার সোহেল আহমেদসহ অজ্ঞাত ১৫–২০ জন হামলায় অংশ নিয়েছেন। তারা চেয়ারের আঘাত, অকথ্য গালিগালাজ, ক্যামেরা ভাঙচুরের চেষ্টা এবং মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি প্রদান করেছেন।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলি জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।