সাধারণ ক্ষমায় সীমা ও বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট বেঞ্চে ঐকমত্য
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
- / 182
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চলমান সংলাপের দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। বিষয় দুটি হলো—রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার ক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ বিভাগীয় শহরে সম্প্রসারণ।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “আমরা সবাই সম্মত হয়েছি যে সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট ঢাকায় থাকবে, তবে হাইকোর্টের বিচার বিভাগীয় শহরে সম্প্রসারিত হওয়া দরকার। এতে বিচার প্রক্রিয়া জনগণের কাছে আরও সহজ হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিচারপ্রার্থীদের ঢাকায় আসা-যাওয়া, থাকা ও অপেক্ষার যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বিচার ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য। যদিও বিচারপতি ও দক্ষ আইনজীবীর অভাবের মতো কিছু চ্যালেঞ্জ আছে, কিন্তু তা মোকাবিলার পথও আছে—নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের মাধ্যমে।”
তাহের জানান, কেবল সার্কিট বেঞ্চে নয়, বিভাগীয় শহরে স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন করতে হবে। এর জন্য সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের কথা বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার বিষয়ে তিনি বলেন, “ক্ষমা যেন অপরাধীদের রক্ষা করার একটি পথ না হয়, সে বিষয়ে আজ সবাই একমত হয়েছি। রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের আগে ভুক্তভোগী পরিবার ও ওয়ারিশদের মতামত নিতে হবে। এজন্য একটি সুপারিশকারী বডি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাদের মতামতের ভিত্তিতে ক্ষমা প্রদান করা হবে।”
জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও প্রস্তাব দেওয়া হয়, রাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অপরাধে রাষ্ট্রপতি বা গঠিত কমিটি ক্ষমা সুপারিশ করতে পারবে, তবে ব্যক্তিগত অপরাধে তা নির্ভর করবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও উত্তরাধিকারীদের সম্মতির ওপর।
তাহের বলেন, “ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এটি হবে একটি নতুন মাত্রা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে না জানিয়ে কাউকে ক্ষমা দেওয়া যাবে না—এটাই হবে নতুন নীতিমালা।”
সংলাপে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও ড. হামিদুর রহমান আযাদও উপস্থিত ছিলেন।































