ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ডোনেশন নাকি চাঁদাবাজি, গোপনে ভিডিও

সাত লাখে বিক্রি হলো এনসিপির সততা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
  • / 222

সাত লাখে বিক্রি হলো এনসিপির সততা

একজন নারী উদ্যোক্তার কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা গ্রহণের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য মো. ইমামুর রশিদের বিরুদ্ধে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষাবিদ ড. এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি তার ফেসবুক পেজে ভিডিওটি পোস্ট করেন ১৩ জুলাই, যেখানে দেখা যায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১৪ মে ২০২৫ তারিখে ইমামুর রশিদ একজন নারীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা নিচ্ছেন।

ওয়াহিদুজ্জামান লিখেছেন, ওই নারী দাবি করেছেন যে, প্রজেক্টে কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তিনি এনসিপিকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৮ লাখ টাকা প্রদান করেছেন, কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি।

ইমামুর রশিদ এই ঘটনায় ফেসবুক পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি দাবি করেন, নারী উদ্যোক্তা স্বেচ্ছায় পার্টির তহবিলে ডোনেশন দিয়েছেন এবং ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হয়েছে।

তার ভাষায়, “তাঁর (নারী উদ্যোক্তার) অনুরোধে আমি ১০ লাখ টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব পাই। তিনি সেই সন্ধ্যায় ৭ লাখ টাকা দেন, যা আমি দায়িত্ব পালন করে কোষাধ্যক্ষের কাছে জমা দিই। এখানে কোনো ব্যক্তিগত লেনদেন নেই।”

তিনি আরও দাবি করেন, ওই নারী এনসিপির শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে ‘ব্যক্তিগত অনৈতিক সুবিধা’ চাইলে তা না পেয়ে ভিডিওটি ভাইরাল করেন।

ইমামুর রশিদ দাবি করেন, “ডোনেশন সংগ্রহ রাজনৈতিক দলে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমরা কোনো লোভ দেখাইনি, কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি।”

তার কথায়, “নারী উদ্যোক্তার উদ্দেশ্য শুরু থেকেই অসৎ ছিল। তিনি গোপনে ভিডিও ধারণ করে সেটি ভাইরাল করেছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, তার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ফায়দা ও বিতর্ক সৃষ্টি করা।”

ভুক্তভোগী নারী ৪৮ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি করলেও ইমামুর রশিদ তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই এবং এই সংখ্যা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা।”

ইমামুর রশিদ বলেন, “আমি যদি কোনো অনৈতিক কাজ করে থাকি, তা প্রমাণ করতে পারলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবো।”

ঘটনার পর এনসিপি একটি নতুন ডোনেশন নীতিমালা তৈরি করেছে এবং ফান্ড কালেকশনের জন্য আলাদা ওয়েবসাইট চালু করেছে বলে জানান তিনি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন এনসিপি রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় রয়েছে। রাজনৈতিক অনুদান ও তহবিল সংগ্রহ নিয়ে নানা দলেই নানা সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ভিডিওর প্রেক্ষিতে এনসিপির স্বচ্ছতা ও অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না আসলেও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে নতুন দলটির সততা নিয়েও।

৭ লাখ টাকার ভিডিও ভাইরালের মাধ্যমে এনসিপির ভেতরের তহবিলনীতি ও নেতাদের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও ইমামুর রশিদ এটিকে ‘ডোনেশন’ বলেই দাবি করছেন, ভিডিওতে লেনদেনের দৃশ্য, নারী উদ্যোক্তার অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রকাশ—সব মিলিয়ে ইস্যুটি এখনো উত্তপ্ত।

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ডোনেশন ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ডোনেশন নাকি চাঁদাবাজি, গোপনে ভিডিও

সাত লাখে বিক্রি হলো এনসিপির সততা

সর্বশেষ আপডেট ১২:০৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

একজন নারী উদ্যোক্তার কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা গ্রহণের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য মো. ইমামুর রশিদের বিরুদ্ধে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করেন বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষাবিদ ড. এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি তার ফেসবুক পেজে ভিডিওটি পোস্ট করেন ১৩ জুলাই, যেখানে দেখা যায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১৪ মে ২০২৫ তারিখে ইমামুর রশিদ একজন নারীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা নিচ্ছেন।

ওয়াহিদুজ্জামান লিখেছেন, ওই নারী দাবি করেছেন যে, প্রজেক্টে কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তিনি এনসিপিকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৮ লাখ টাকা প্রদান করেছেন, কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি।

ইমামুর রশিদ এই ঘটনায় ফেসবুক পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি দাবি করেন, নারী উদ্যোক্তা স্বেচ্ছায় পার্টির তহবিলে ডোনেশন দিয়েছেন এবং ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হয়েছে।

তার ভাষায়, “তাঁর (নারী উদ্যোক্তার) অনুরোধে আমি ১০ লাখ টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব পাই। তিনি সেই সন্ধ্যায় ৭ লাখ টাকা দেন, যা আমি দায়িত্ব পালন করে কোষাধ্যক্ষের কাছে জমা দিই। এখানে কোনো ব্যক্তিগত লেনদেন নেই।”

তিনি আরও দাবি করেন, ওই নারী এনসিপির শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে ‘ব্যক্তিগত অনৈতিক সুবিধা’ চাইলে তা না পেয়ে ভিডিওটি ভাইরাল করেন।

ইমামুর রশিদ দাবি করেন, “ডোনেশন সংগ্রহ রাজনৈতিক দলে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমরা কোনো লোভ দেখাইনি, কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি।”

তার কথায়, “নারী উদ্যোক্তার উদ্দেশ্য শুরু থেকেই অসৎ ছিল। তিনি গোপনে ভিডিও ধারণ করে সেটি ভাইরাল করেছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, তার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ফায়দা ও বিতর্ক সৃষ্টি করা।”

ভুক্তভোগী নারী ৪৮ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি করলেও ইমামুর রশিদ তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই এবং এই সংখ্যা সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা।”

ইমামুর রশিদ বলেন, “আমি যদি কোনো অনৈতিক কাজ করে থাকি, তা প্রমাণ করতে পারলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবো।”

ঘটনার পর এনসিপি একটি নতুন ডোনেশন নীতিমালা তৈরি করেছে এবং ফান্ড কালেকশনের জন্য আলাদা ওয়েবসাইট চালু করেছে বলে জানান তিনি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন এনসিপি রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় রয়েছে। রাজনৈতিক অনুদান ও তহবিল সংগ্রহ নিয়ে নানা দলেই নানা সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ভিডিওর প্রেক্ষিতে এনসিপির স্বচ্ছতা ও অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না আসলেও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে নতুন দলটির সততা নিয়েও।

৭ লাখ টাকার ভিডিও ভাইরালের মাধ্যমে এনসিপির ভেতরের তহবিলনীতি ও নেতাদের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও ইমামুর রশিদ এটিকে ‘ডোনেশন’ বলেই দাবি করছেন, ভিডিওতে লেনদেনের দৃশ্য, নারী উদ্যোক্তার অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রকাশ—সব মিলিয়ে ইস্যুটি এখনো উত্তপ্ত।

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ডোনেশন ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।