ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাততলার আগুন পুড়তে পুড়তে নিচতলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:১৮:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 127

সাততলার আগুন পুড়তে পুড়তে নিচতলায়

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় একটি সাততলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি কারখানা ও তাদের গুদামের সবকিছু পুড়ে গেছে। ভবনটিতে ছিল অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানির কারখানা। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে ভবনের সাততলায় আগুনের সূত্রপাত হয়, যা ধীরে ধীরে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের ২৩টি ইউনিটসহ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা রাতভর আগুন নেভানোর চেষ্টা চালালেও রাত ১২টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। তীব্র তাপের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের কাছে যেতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে প্রবল বৃষ্টি নামলে কিছুটা সুবিধা হয়, তবে আগুন তখনও দাউ দাউ করে জ্বলছিল।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, টানা ১০ ঘণ্টা ধরে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করেছেন, অনেকেই অসুস্থ ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ভবনের ভেতরে প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে ভবনের ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই বলে মালিকপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

ভবনের প্রথম থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত ছিল অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেডের কারখানা, পঞ্চম তলায় জিহং মেডিকেল কোম্পানির কারখানা এবং ছয় ও সাততলায় ছিল উভয় প্রতিষ্ঠানের গুদাম। সাততলায় আগুন লাগার পর তা একে একে নিচতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার দিকে আগুন পাশের তিনতলা একটি ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে।

আগুনের তাপ এত প্রবল ছিল যে এক কিলোমিটার দূর থেকেও তা অনুভূত হচ্ছিল। সকাল থেকে শ্রমিকদের সংঘর্ষজনিত যানজটে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছতে কিছুটা বিলম্ব হয়। আগুন নেভানোর সময় ভবনের ভেতর থেকে ছোট ছোট বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়।

এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার অ্যালার্ম বাজানো হলে ৭০০ শ্রমিক নিরাপদে বের হয়ে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছয় ও সাততলায় ধোঁয়ায় আটকে পড়া ২৫ জনকে উদ্ধার করেন।

সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুস সুবাহান জানান, আগুন সাততলার গুদাম থেকে শুরু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাডামস কারখানায় তোয়ালে ও ক্যাপ তৈরি করা হতো, আর জিহং মেডিকেল কোম্পানিতে সার্জিকেল গাউন উৎপাদন চলত।

ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশ, সেনা ও বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য মোতায়েন ছিল নিরাপত্তা নিশ্চিতে। শিল্প পুলিশের সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, রাতে আগুন পাশের আরেকটি ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, অ্যাডামস ক্যাপ কারখানাটি পরিচালনা করছেন এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।

ভবন ঘিরে বিকেল থেকেই শত শত মানুষ ভিড় করেন। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিইপিজেডের আশপাশের অনেক কারখানা নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি ঘোষণা করে দেয়। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাততলার আগুন পুড়তে পুড়তে নিচতলায়

সর্বশেষ আপডেট ১০:১৮:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় একটি সাততলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি কারখানা ও তাদের গুদামের সবকিছু পুড়ে গেছে। ভবনটিতে ছিল অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানির কারখানা। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে ভবনের সাততলায় আগুনের সূত্রপাত হয়, যা ধীরে ধীরে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের ২৩টি ইউনিটসহ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা রাতভর আগুন নেভানোর চেষ্টা চালালেও রাত ১২টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। তীব্র তাপের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের কাছে যেতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে প্রবল বৃষ্টি নামলে কিছুটা সুবিধা হয়, তবে আগুন তখনও দাউ দাউ করে জ্বলছিল।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, টানা ১০ ঘণ্টা ধরে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করেছেন, অনেকেই অসুস্থ ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ভবনের ভেতরে প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে ভবনের ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই বলে মালিকপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

ভবনের প্রথম থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত ছিল অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেডের কারখানা, পঞ্চম তলায় জিহং মেডিকেল কোম্পানির কারখানা এবং ছয় ও সাততলায় ছিল উভয় প্রতিষ্ঠানের গুদাম। সাততলায় আগুন লাগার পর তা একে একে নিচতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার দিকে আগুন পাশের তিনতলা একটি ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে।

আগুনের তাপ এত প্রবল ছিল যে এক কিলোমিটার দূর থেকেও তা অনুভূত হচ্ছিল। সকাল থেকে শ্রমিকদের সংঘর্ষজনিত যানজটে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছতে কিছুটা বিলম্ব হয়। আগুন নেভানোর সময় ভবনের ভেতর থেকে ছোট ছোট বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়।

এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার অ্যালার্ম বাজানো হলে ৭০০ শ্রমিক নিরাপদে বের হয়ে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছয় ও সাততলায় ধোঁয়ায় আটকে পড়া ২৫ জনকে উদ্ধার করেন।

সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুস সুবাহান জানান, আগুন সাততলার গুদাম থেকে শুরু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাডামস কারখানায় তোয়ালে ও ক্যাপ তৈরি করা হতো, আর জিহং মেডিকেল কোম্পানিতে সার্জিকেল গাউন উৎপাদন চলত।

ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশ, সেনা ও বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য মোতায়েন ছিল নিরাপত্তা নিশ্চিতে। শিল্প পুলিশের সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, রাতে আগুন পাশের আরেকটি ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, অ্যাডামস ক্যাপ কারখানাটি পরিচালনা করছেন এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।

ভবন ঘিরে বিকেল থেকেই শত শত মানুষ ভিড় করেন। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিইপিজেডের আশপাশের অনেক কারখানা নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি ঘোষণা করে দেয়। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস।