ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
জানাজায় হাজারো মানুষ

সাজিদের অশ্রুসিক্ত বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 127

সাজিদের জানাজায় হাজারো মানুষ

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট মধ্যপাড়া যেন শোকের শহরে পরিণত হয়েছিল শুক্রবার সকাল থেকেই। দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যুসংবাদ ভোরে মসজিদের মাইকে প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো গ্রাম নিস্তব্ধ হয়ে যায়—কাজ বন্ধ, বাজার ফাঁকা, মাঠ-ঘাট জনশূন্য। সবাই ছুটে চলেছে এক দুঃখের ঠিকানার দিকে—সাজিদের বাড়ি।

সাজিদের জানাজা হয় বাবার বাড়ির পাশের খোলা মাঠে। সকাল থেকেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন গ্রামের মানুষ। বৃদ্ধ, নারী, তরুণ, স্কুলপড়ুয়া বাচ্চারা—সবাই এসে দাঁড়ায় সেই নিষ্পাপ শিশুটির শেষবারের মতো মুখ দেখার আশায়। যে শিশুর হাসিতে প্রতিদিন ভরে উঠত উঠোন, তার নিস্তব্ধ মুখ দেখে অনেকেই কান্না থামাতে পারেননি।

সাদা কাপড়ে মোড়ানো ছোট্ট দেহটি যখন মাঠে আনা হয়, তখন চারপাশে কান্নার রোল পড়ে যায়। সাজিদের মা সন্তানকে দেখতে ছুটে যেতে চাইছিলেন বারবার। স্বজনরা থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি শোকে ভেঙে পড়েছিলেন।

জানাজার ইমামতি করেন কাজী মাওলানা মিজানুর রহমান। জানাজা শেষে হাত তুলে দোয়া করেন হাজারো মানুষ—সাজিদের জন্য মাগফিরাত আর তার পরিবারের জন্য ধৈর্য কামনা করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ গ্রামের সাধারণ মানুষ সবাই উপস্থিত ছিলেন এই ব্যথাভরা মুহূর্তে।

জানাজা শেষে যখন ছোট্ট কফিনটি কবরস্থানে নেওয়া হচ্ছিল, তখন পুরো পরিবেশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়। বাতাসও যেন থেমে ছিল সেই মুহূর্তে, ভেসে আসছিল শুধু স্বজনদের কান্না। গ্রামবাসীরা বলছিলেন—একটি শিশুর জানাজায় এমন ভিড় তারা আগে কখনো দেখেননি।

বুধবার দুপুরে কোয়েলহাট পূর্বপাড়ায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয় সাজিদ। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা টানা ৩২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে প্রায় ৪০ ফুট মাটি খনন করে তাকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাজিদের বিদায়ে শোকাবহ এক দিন কাটালো পুরো গ্রাম—একটি অপূর্ণ জীবনের এমন করুণ পরিসমাপ্তি কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জানাজায় হাজারো মানুষ

সাজিদের অশ্রুসিক্ত বিদায়

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট মধ্যপাড়া যেন শোকের শহরে পরিণত হয়েছিল শুক্রবার সকাল থেকেই। দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যুসংবাদ ভোরে মসজিদের মাইকে প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো গ্রাম নিস্তব্ধ হয়ে যায়—কাজ বন্ধ, বাজার ফাঁকা, মাঠ-ঘাট জনশূন্য। সবাই ছুটে চলেছে এক দুঃখের ঠিকানার দিকে—সাজিদের বাড়ি।

সাজিদের জানাজা হয় বাবার বাড়ির পাশের খোলা মাঠে। সকাল থেকেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন গ্রামের মানুষ। বৃদ্ধ, নারী, তরুণ, স্কুলপড়ুয়া বাচ্চারা—সবাই এসে দাঁড়ায় সেই নিষ্পাপ শিশুটির শেষবারের মতো মুখ দেখার আশায়। যে শিশুর হাসিতে প্রতিদিন ভরে উঠত উঠোন, তার নিস্তব্ধ মুখ দেখে অনেকেই কান্না থামাতে পারেননি।

সাদা কাপড়ে মোড়ানো ছোট্ট দেহটি যখন মাঠে আনা হয়, তখন চারপাশে কান্নার রোল পড়ে যায়। সাজিদের মা সন্তানকে দেখতে ছুটে যেতে চাইছিলেন বারবার। স্বজনরা থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি শোকে ভেঙে পড়েছিলেন।

জানাজার ইমামতি করেন কাজী মাওলানা মিজানুর রহমান। জানাজা শেষে হাত তুলে দোয়া করেন হাজারো মানুষ—সাজিদের জন্য মাগফিরাত আর তার পরিবারের জন্য ধৈর্য কামনা করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ গ্রামের সাধারণ মানুষ সবাই উপস্থিত ছিলেন এই ব্যথাভরা মুহূর্তে।

জানাজা শেষে যখন ছোট্ট কফিনটি কবরস্থানে নেওয়া হচ্ছিল, তখন পুরো পরিবেশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়। বাতাসও যেন থেমে ছিল সেই মুহূর্তে, ভেসে আসছিল শুধু স্বজনদের কান্না। গ্রামবাসীরা বলছিলেন—একটি শিশুর জানাজায় এমন ভিড় তারা আগে কখনো দেখেননি।

বুধবার দুপুরে কোয়েলহাট পূর্বপাড়ায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয় সাজিদ। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা টানা ৩২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে প্রায় ৪০ ফুট মাটি খনন করে তাকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাজিদের বিদায়ে শোকাবহ এক দিন কাটালো পুরো গ্রাম—একটি অপূর্ণ জীবনের এমন করুণ পরিসমাপ্তি কেউই মেনে নিতে পারছেন না।