ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাইফুল ইসলামের হাতে বি.জি.প্রেস একাডেমি যেন ‘মাফিয়ার ঘাঁটি’

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 598

সাইফুল ইসলামের হাতে বি.জি.প্রেস একাডেমি যেন ‘মাফিয়ার ঘাঁটি’

এক সময়ের সম্ভাবনাময় কোচ সাইফুল ইসলাম খোকন এখন অনেকের কাছে রীতিমতো ‘একাডেমি ডন’। একাডেমিক ক্রিকেটে প্রভাব খাটানো, খেলোয়াড়দের ওপর নির্যাতন, আর্থিক অনিয়ম, ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি—সব মিলিয়ে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ভয় ও বিতর্কের কালো দুনিয়া।

২০২০ সালে খেলাঘর ক্রিকেট দলে সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক খেলোয়াড়ের সঙ্গে অশোভন আচরণ, নারীকেন্দ্রিক কেলেঙ্কারি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে পদচ্যুত করা হয়। মেয়েদের প্রতি অনৈতিক প্রস্তাব, ব্যক্তিগত জীবনে পরকীয়াজনিত টানাপোড়েন এবং এক পর্যায়ে বিবাহবিচ্ছেদ—এসব ঘটনায় তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিও ধসে পড়ে।

দীর্ঘদিন চাকরি না পেয়ে দুই মাস বেকার অবস্থার পর, ইফাত মাহমুদ শরীফের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং মনিরুজ্জামান পলাশের সহযোগিতায় গড়ে ওঠে বি.জি.প্রেস ক্রিকেট একাডেমি। একাডেমির শুরুর দিকে ইফাতের উদ্যোগে প্রায় ৪০ জন তরুণ ক্রিকেটার ভর্তি হন। সাইফুল তখন তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন—এই একাডেমি হবে তাদের স্বপ্ন পূরণের পথ।

কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। একাডেমিতে শুরু হয় স্বেচ্ছাচারিতা, পক্ষপাত এবং অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত। অভিযোগ রয়েছে—দলের নির্বাচন করা হতো ব্যক্তিগত পছন্দ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতে। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে বাইরের ক্রিকেটারদের দলে ঢোকানো হতো, আর একাডেমির নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জায়গা কেটে দেওয়া হতো বিনা কারণে।
এই বৈষম্য ও অরাজকতায় ভেঙে পড়ে প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্ন। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থীকে একে একে একাডেমি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। অনেকেই হতাশ হয়ে ক্রিকেট ছেড়ে দেন।

সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে আরও গুরুতর অভিযোগ—খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে আঘাত করা, মানসিকভাবে হেয় করা এবং টাকা আত্মসাৎ। বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার জানিয়েছেন যে, ঢাকালিগে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি কখনও পূরণ হয়নি।

একাডেমি হওয়ার কথা ছিল তরুণ প্রতিভা গড়ার জায়গা। কিন্তু অভিযোগগুলো সত্য হলে, সেটি এখন পরিণত হয়েছে ভয়, দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘাঁটিতে। সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার তাদের ভবিষ্যৎ হারাতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাইফুল ইসলামের হাতে বি.জি.প্রেস একাডেমি যেন ‘মাফিয়ার ঘাঁটি’

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

এক সময়ের সম্ভাবনাময় কোচ সাইফুল ইসলাম খোকন এখন অনেকের কাছে রীতিমতো ‘একাডেমি ডন’। একাডেমিক ক্রিকেটে প্রভাব খাটানো, খেলোয়াড়দের ওপর নির্যাতন, আর্থিক অনিয়ম, ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি—সব মিলিয়ে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ভয় ও বিতর্কের কালো দুনিয়া।

২০২০ সালে খেলাঘর ক্রিকেট দলে সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে একাধিক খেলোয়াড়ের সঙ্গে অশোভন আচরণ, নারীকেন্দ্রিক কেলেঙ্কারি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে পদচ্যুত করা হয়। মেয়েদের প্রতি অনৈতিক প্রস্তাব, ব্যক্তিগত জীবনে পরকীয়াজনিত টানাপোড়েন এবং এক পর্যায়ে বিবাহবিচ্ছেদ—এসব ঘটনায় তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিও ধসে পড়ে।

দীর্ঘদিন চাকরি না পেয়ে দুই মাস বেকার অবস্থার পর, ইফাত মাহমুদ শরীফের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং মনিরুজ্জামান পলাশের সহযোগিতায় গড়ে ওঠে বি.জি.প্রেস ক্রিকেট একাডেমি। একাডেমির শুরুর দিকে ইফাতের উদ্যোগে প্রায় ৪০ জন তরুণ ক্রিকেটার ভর্তি হন। সাইফুল তখন তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন—এই একাডেমি হবে তাদের স্বপ্ন পূরণের পথ।

কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। একাডেমিতে শুরু হয় স্বেচ্ছাচারিতা, পক্ষপাত এবং অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত। অভিযোগ রয়েছে—দলের নির্বাচন করা হতো ব্যক্তিগত পছন্দ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতে। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে বাইরের ক্রিকেটারদের দলে ঢোকানো হতো, আর একাডেমির নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জায়গা কেটে দেওয়া হতো বিনা কারণে।
এই বৈষম্য ও অরাজকতায় ভেঙে পড়ে প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্ন। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থীকে একে একে একাডেমি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। অনেকেই হতাশ হয়ে ক্রিকেট ছেড়ে দেন।

সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে আরও গুরুতর অভিযোগ—খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে আঘাত করা, মানসিকভাবে হেয় করা এবং টাকা আত্মসাৎ। বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার জানিয়েছেন যে, ঢাকালিগে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি কখনও পূরণ হয়নি।

একাডেমি হওয়ার কথা ছিল তরুণ প্রতিভা গড়ার জায়গা। কিন্তু অভিযোগগুলো সত্য হলে, সেটি এখন পরিণত হয়েছে ভয়, দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘাঁটিতে। সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার তাদের ভবিষ্যৎ হারাতে পারে।