ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাইনুসাইটিস’র ব্যথা থেকে মুক্তির উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 127

প্রতীকী ছবি

মাথাব্যথা অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হলেও, সাইনুসাইটিসজনিত ব্যথা অনেক সময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। মুখমণ্ডলের হাড়ের ভেতরে থাকা বায়ুভর্তি গহ্বরগুলো বা সাইনাস সাধারণত বাতাস চলাচলের জন্য খোলা থাকে। কিন্তু সংক্রমণ বা অ্যালার্জির কারণে এসব গহ্বর ফুলে গেলে এবং শ্লেষ্মা জমে গেলে ভেতরে চাপ সৃষ্টি হয়, ফলে দেখা দেয় তীব্র মাথাব্যথা ও মুখের অস্বস্তি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সাইনাসের প্রদাহ কমানো ও জমে থাকা কফ দূর করা জরুরি। নিচে রয়েছে সাইনুসাইটিসের ব্যথা কমানোর কিছু কার্যকর ঘরোয়া উপায়—

বাষ্প গ্রহণে আরাম:
গরম পানির ভাপ নেওয়া সাইনাসের কফ পাতলা করে এবং চাপ কমাতে সাহায্য করে। একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে কয়েক মিনিট ভাপ নিলে উপকার পাওয়া যায়। দিনে দুই থেকে তিনবার এটি করলে আরাম মেলে। কুসুম গরম পানিতে গোসল করলেও উপকার পাওয়া সম্ভব।

গরম সেঁকে উপশম:
নাক, কপাল ও গালের ওপর হালকা গরম ভেজা কাপড় সেঁক দিলে মাথার চাপ ও ব্যথা কমে। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ফোলাভাব হ্রাসে সহায়তা করে।

পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ:
প্রচুর পরিমাণে পানি, স্যুপ বা গরম চা পান করলে শ্লেষ্মা পাতলা হয় ও সহজে বেরিয়ে আসে। এতে সাইনাসের চাপ অনেকটাই হালকা হয়ে যায়।

নাকের যত্নে স্যালাইন ও হিউমিডিফায়ার:
লবণপানি বা স্যালাইন নেজাল স্প্রে দিয়ে নাক পরিষ্কার রাখলে জমে থাকা শ্লেষ্মা বের হয়ে যায় ও ফোলাভাব কমে। ঘরের বাতাস আর্দ্র রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করাও কার্যকর। রাতে ঘুমানোর সময় বালিশে মাথা একটু উঁচু করে শোওয়া শ্লেষ্মা নিষ্কাশনে সাহায্য করে।

সাধারণ ওষুধের ব্যবহার:
ওভার-দ্য-কাউন্টার ব্যথানাশক যেমন প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ডিকনজেস্ট্যান্ট জাতীয় ওষুধও ফোলাভাব কমাতে কার্যকর, তবে নেজাল স্প্রে তিন দিনের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়— এতে উল্টো ফলাফল দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ কখন নেবেন:
যদি মাথাব্যথা কয়েক দিনের মধ্যেও না কমে, বা আরও তীব্র হয়, সঙ্গে জ্বর, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন বা ঘাড়ে শক্তভাব দেখা দেয়—তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এছাড়া নাক থেকে হলুদ বা সবুজ রঙের শ্লেষ্মা বের হলে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ থাকতে পারে, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
সাইনুসাইটিসের পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত আর্দ্রতা বজায় রাখা, ধুলাবালি ও ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাইনুসাইটিস’র ব্যথা থেকে মুক্তির উপায়

সর্বশেষ আপডেট ১২:০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

মাথাব্যথা অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হলেও, সাইনুসাইটিসজনিত ব্যথা অনেক সময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। মুখমণ্ডলের হাড়ের ভেতরে থাকা বায়ুভর্তি গহ্বরগুলো বা সাইনাস সাধারণত বাতাস চলাচলের জন্য খোলা থাকে। কিন্তু সংক্রমণ বা অ্যালার্জির কারণে এসব গহ্বর ফুলে গেলে এবং শ্লেষ্মা জমে গেলে ভেতরে চাপ সৃষ্টি হয়, ফলে দেখা দেয় তীব্র মাথাব্যথা ও মুখের অস্বস্তি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সাইনাসের প্রদাহ কমানো ও জমে থাকা কফ দূর করা জরুরি। নিচে রয়েছে সাইনুসাইটিসের ব্যথা কমানোর কিছু কার্যকর ঘরোয়া উপায়—

বাষ্প গ্রহণে আরাম:
গরম পানির ভাপ নেওয়া সাইনাসের কফ পাতলা করে এবং চাপ কমাতে সাহায্য করে। একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে কয়েক মিনিট ভাপ নিলে উপকার পাওয়া যায়। দিনে দুই থেকে তিনবার এটি করলে আরাম মেলে। কুসুম গরম পানিতে গোসল করলেও উপকার পাওয়া সম্ভব।

গরম সেঁকে উপশম:
নাক, কপাল ও গালের ওপর হালকা গরম ভেজা কাপড় সেঁক দিলে মাথার চাপ ও ব্যথা কমে। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ফোলাভাব হ্রাসে সহায়তা করে।

পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ:
প্রচুর পরিমাণে পানি, স্যুপ বা গরম চা পান করলে শ্লেষ্মা পাতলা হয় ও সহজে বেরিয়ে আসে। এতে সাইনাসের চাপ অনেকটাই হালকা হয়ে যায়।

নাকের যত্নে স্যালাইন ও হিউমিডিফায়ার:
লবণপানি বা স্যালাইন নেজাল স্প্রে দিয়ে নাক পরিষ্কার রাখলে জমে থাকা শ্লেষ্মা বের হয়ে যায় ও ফোলাভাব কমে। ঘরের বাতাস আর্দ্র রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করাও কার্যকর। রাতে ঘুমানোর সময় বালিশে মাথা একটু উঁচু করে শোওয়া শ্লেষ্মা নিষ্কাশনে সাহায্য করে।

সাধারণ ওষুধের ব্যবহার:
ওভার-দ্য-কাউন্টার ব্যথানাশক যেমন প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। ডিকনজেস্ট্যান্ট জাতীয় ওষুধও ফোলাভাব কমাতে কার্যকর, তবে নেজাল স্প্রে তিন দিনের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়— এতে উল্টো ফলাফল দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ কখন নেবেন:
যদি মাথাব্যথা কয়েক দিনের মধ্যেও না কমে, বা আরও তীব্র হয়, সঙ্গে জ্বর, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন বা ঘাড়ে শক্তভাব দেখা দেয়—তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এছাড়া নাক থেকে হলুদ বা সবুজ রঙের শ্লেষ্মা বের হলে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ থাকতে পারে, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
সাইনুসাইটিসের পুনরাবৃত্তি রোধে নিয়মিত আর্দ্রতা বজায় রাখা, ধুলাবালি ও ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।