ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নির্বাচন উৎসবমুখর করতে

সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫
  • / 76

সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও সর্বজনীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদার ভূমিকার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সেনাকুঞ্জে আয়োজিত বৈকালিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আশা ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশ শিগগিরই নতুন নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে—এ নির্বাচনই নতুন বাংলাদেশের যাত্রাপথকে আরও সুগম করবে। তিনি আশা করেন, নির্বাচনকে সর্বাঙ্গসুন্দর ও আনন্দমুখর করতে সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, পুনর্গঠন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান বরাবরই প্রশংসনীয়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় এবং পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায়ও বাহিনী আস্থা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছে।

ড. ইউনূস বলেন, পেশাদারিত্ব, দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলার সমন্বয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ভবিষ্যতেও তাদের ত্যাগ ও সাফল্যের ধারা বজায় রাখবে। তিনি আরও জানান, আগ্রাসী শক্তির যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তি উন্নত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট শাসনের সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি অবহেলিত হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাহিনীর উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনসির কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ছাত্র-যুব সমাজকে দেশরক্ষার কাজেও আরও সম্পৃক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সম্মিলিত যুদ্ধ স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘বাংলাদেশ ফোর্সেস’ গঠনের মাধ্যমে সংগঠিত সামরিক ও গেরিলা অভিযানের যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল—তা চূড়ান্ত বিজয়ের পথ সুগম করেছিল।

ড. ইউনূস আরও বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বব্যাপী সফলতা অর্জন করেছে। গত কয়েক দশকে তারা ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশন সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে ১০টি মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণেও বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এই অবদানের জন্য তিনি বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নির্বাচন উৎসবমুখর করতে

সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও সর্বজনীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদার ভূমিকার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সেনাকুঞ্জে আয়োজিত বৈকালিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আশা ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশ শিগগিরই নতুন নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে—এ নির্বাচনই নতুন বাংলাদেশের যাত্রাপথকে আরও সুগম করবে। তিনি আশা করেন, নির্বাচনকে সর্বাঙ্গসুন্দর ও আনন্দমুখর করতে সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, পুনর্গঠন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান বরাবরই প্রশংসনীয়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় এবং পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায়ও বাহিনী আস্থা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছে।

ড. ইউনূস বলেন, পেশাদারিত্ব, দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলার সমন্বয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ভবিষ্যতেও তাদের ত্যাগ ও সাফল্যের ধারা বজায় রাখবে। তিনি আরও জানান, আগ্রাসী শক্তির যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তি উন্নত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট শাসনের সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি অবহেলিত হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাহিনীর উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনসির কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ছাত্র-যুব সমাজকে দেশরক্ষার কাজেও আরও সম্পৃক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সম্মিলিত যুদ্ধ স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘বাংলাদেশ ফোর্সেস’ গঠনের মাধ্যমে সংগঠিত সামরিক ও গেরিলা অভিযানের যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল—তা চূড়ান্ত বিজয়ের পথ সুগম করেছিল।

ড. ইউনূস আরও বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বব্যাপী সফলতা অর্জন করেছে। গত কয়েক দশকে তারা ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশন সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে ১০টি মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। নারী শান্তিরক্ষী প্রেরণেও বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এই অবদানের জন্য তিনি বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।