সর্বোচ্চ ধৈর্য নিয়ে পরিপক্ব আচরণ করছি : আসিফ মাহমুদ
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
- / 128
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান অচলাবস্থার বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার দায়িত্বশীলভাবে সর্বোচ্চ ধৈর্য প্রদর্শন করছে।
একজন সাংবাদিক জানতে চান, “সিটি করপোরেশন মিলনায়তনে ইশরাক হোসেন মিটিং করছেন এবং আপনাকে দায়ী করছেন। আপনি কী বলবেন?”
উত্তরে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আপনারা জানেন, রিটের কারণে প্রায় এক মাস ধরে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন ছিল। আমাদের স্থানীয় সরকার বিভাগ রিটের পক্ষভুক্ত ছিল। প্রথম দফায় রিট খারিজ হলেও পরে আপিল বিভাগে আবার আবেদন করা হয়। ফলে, আমরা তখন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি—তাতে আদালত অবমাননার ঝুঁকি থাকত।”
তিনি বলেন, “২৬ মে ছিল শপথ প্রদানের শেষ তারিখ। ফাইলটি আমার টেবিলেও এসেছিল। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় জানায়, যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন, তাই শপথ গ্রহণ সম্ভব নয়। এর ফলে গেজেটের মেয়াদ শেষ হয় এবং ১ জুন মেয়াদোত্তীর্ণ হয় সিটি করপোরেশনের। এরপর আর শপথের সুযোগ ছিল না।”
আসিফ মাহমুদ বলেন, “আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ ছিল নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দেবে। কিন্তু কমিশন নতুন কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে নাগরিক সেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পুরো সিটি করপোরেশন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, যা এক কোটি মানুষের সেবাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।”
তিনি ইশরাক হোসেনকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমরা আশা করি, তিনি আইনি দিকটি বিবেচনায় নেবেন। সরকারের সঙ্গে বিএনপির যে সৌহার্দ্য তৈরি হয়েছে, সেটি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আমি তাকে গণ-অভ্যুত্থানের অংশীজন হিসেবে দেখি, তাই তাকে কখনো ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করিনি।”
তিনি আরো বলেন, “সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, মেয়রের চেয়ারে বসা, কর্মকর্তাদের কাজে বাধা—এগুলো প্রচলিত আইনে অপরাধ। উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমি একা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি, নেওয়ার সুযোগও নেই।”
বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “স্থানীয় বিএনপি নেতা বিষয়টিকে কেন্দ্র করে উসকানি দিচ্ছেন। এমনকি একপর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিও ওঠে, যা জাতীয় ঐক্যে ফাটল ধরায়। ৫ আগস্টের পর আমরা বড় পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি।”
তিনি ইশরাক হোসেন সম্পর্কে বলেন, “তিনি তরুণ প্রজন্মের আইডল। কিন্তু তাকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাই।”
সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচন দেওয়ার প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুযায়ী দলগুলোকে একমত হওয়া দরকার।”
জনসেবার অচলাবস্থা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, “৪০ শতাংশ সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে নাগরিক সেবা চালু রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ব্যক্তিগত লাভ নয়, বরং বৃহত্তর স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।”
তিনি জানান, বিএনপি তাদের কর্মীদের এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে বলেছে, যা সরকারের কাছে ইতিবাচক বার্তা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সমাধান আসবে।
শেষে তিনি বলেন, “এই সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য। শুরুতেই যদি সেটা করা হতো, পরিস্থিতি এমন হতো না।”
































