সর্বাধিক ভারী স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করল ভারত
- সর্বশেষ আপডেট ০১:০১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 114
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) দেশটির মাটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে ভারী যোগাযোগ উপগ্রহ সিএমএস-০৩ সফলভাবে মহাকাশে প্রেরণ করেছে। ৪ হাজার ৪১০ কিলোগ্রামের এই উপগ্রহটি নতুন প্রজন্মের দেশীয় এলভিএম৩-এম৫ বা ‘বাহুবলী’ রকেটের মাধ্যমে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে। এটি ভারতের মহাকাশ অভিযানে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উৎক্ষেপণ রোববার (২ নভেম্বর) বিকেল ৫টা ২৬ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সম্পন্ন হয়। উৎক্ষেপণের পর ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানান, রকেটটি সফলভাবে সিএমএস-০৩ উপগ্রহটিকে নির্ধারিত জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, “এই বাহুবলী রকেটটি গতবার ‘চন্দ্রযান-৩’ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে দেশকে গর্বিত করেছিল, আর এবার আরও একটি বড় সাফল্য এনে দিল।”
ইসরো জানায়, সিএমএস-০৩ একটি মাল্টি-ব্যান্ড কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট, যা ভারতীয় ভূমি ও সমুদ্র অঞ্চলজুড়ে যোগাযোগ সেবা প্রদান করবে। এটি ২০১৩ সালে উৎক্ষেপিত জিএসএটি-৭ সিরিজের পরিবর্তে কাজ করবে এবং অন্তত ১৫ বছর ধরে যোগাযোগ সেবা দিবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘বাহুবলী’ নামে পরিচিত এই রকেটটি তিন ধাপবিশিষ্ট একটি ভারী উৎক্ষেপণযান। এতে রয়েছে দুটি সলিড মোটর স্ট্র্যাপ-অন (এস-২০০), একটি তরল জ্বালানিচালিত কেন্দ্রীয় অংশ (এল১১০) এবং একটি ক্রায়োজেনিক ধাপ (সি২৫)। ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এলভিএম৩ রকেটের আটটি উৎক্ষেপণই সফল হয়েছে, যার মধ্যে পরীক্ষামূলক মিশনও অন্তর্ভুক্ত।
উৎক্ষেপণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্সে বার্তা দিয়ে ইসরোকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা দেশের গর্ব। তাদের সাফল্য ভারতের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করছে এবং অসংখ্য জীবনকে ক্ষমতায়িত করছে।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংও ইসরো ও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে একাধিক সফল মহাকাশ অভিযানের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ইসরোর বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বিজ্ঞানীরা সফলভাবে মিশনটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন। অতীতে ভারী উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য ভারতকে ফ্রান্সভিত্তিক আরিয়ানস্পেস সংস্থার আরিয়ান-৫ রকেট ব্যবহার করতে হতো। ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর ইসরো তার সবচেয়ে ভারী উপগ্রহ জিএসএটি-১১ ফ্রেঞ্চ গায়ানার কুরু উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে প্রেরণ করেছিল, যার ওজন ছিল ৫ হাজার ৮৫৪ কিলোগ্রাম।
যদিও এবার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ‘বাহুবলী’ রকেটের মাধ্যমে ভারত নিজস্ব মাটিতেই ভারী উপগ্রহ উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জন করেছে। এই রকেটের সি২৫ ক্রায়োজেনিক স্টেজসহ প্রতিটি অংশই দেশীয়ভাবে তৈরি।
ইসরো আরও জানায়, সংস্থাটি বর্তমানে মানববাহী মহাকাশ অভিযান “গগনযান মিশন”-এর জন্য হিউম্যান-রেটেড এলভিএম৩ রকেট তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে ভারতীয় নভোচারীদের মহাকাশে পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত হবে।
































