সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভিটামিন সি কতটা কার্যকর?
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / 71
ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড আমাদের শরীরের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। যেহেতু শরীর নিজে থেকে এটি তৈরি করতে পারে না, তাই খাদ্যের মাধ্যমে নিয়মিত গ্রহণ করা জরুরি।
শীতকাল এসে ঠান্ডা-কাশির প্রকোপ বেড়েছে, তাই অনেকেই ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট বা সি সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যাভ্যাসে বাড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে এটি কি সত্যিই সর্দি-কাশি প্রতিরোধে কার্যকর? হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলসহ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন সি সরাসরি সর্দি প্রতিরোধ করতে পারে না। তবে নিয়মিত গ্রহণ করলে সর্দি হলে এর সময়কাল কিছুটা কমতে পারে বা উপসর্গ হালকা হতে পারে।
ভিটামিন সি মূলত শরীরের কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। এটি ত্বক, রক্তনালি, হাড় ও সংযোজক কলার জন্য অপরিহার্য। এছাড়া ভিটামিন সি আয়রন শোষণ বাড়ায়, ক্ষত দ্রুত সারাতে সাহায্য করে এবং একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
একটি ভুল ধারণা হলো—যত বেশি ভিটামিন সি, তত বেশি উপকার। তবে অতিরিক্ত ভিটামিন সি (প্রতিদিন ২০০০ মিলিগ্রামের বেশি) গ্রহণ করলে ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমি ভাব এবং কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অতিমাত্রায় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ স্বাস্থ্যকর নয়।
আরও একটি ভুল ধারণা হলো ভিটামিন সি ক্যানসার বা হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। যদিও ফল ও শাকসবজি সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাসে এসব রোগের ঝুঁকি কমতে পারে, তবে শুধুমাত্র ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট একা এসব রোগ প্রতিরোধে কার্যকর—এমন প্রমাণ এখনও পর্যাপ্ত নয়।
দৈনিক প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ভিটামিন সি চাহিদা প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম পুরুষদের এবং ৭৫ মিলিগ্রাম নারীদের জন্য। ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা কিছুটা বেশি। কমলা, লেবু, পেয়ারা, কাঁচা মরিচ, টমেটো, ব্রোকলি, পালংশাকের মতো সহজলভ্য খাবারেই পর্যাপ্ত ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, সুস্থ থাকতে ভিটামিন সি অপরিহার্য, তবে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন নেই। সুষম খাদ্যাভ্যাসই সর্বোত্তম এবং নিরাপদ সমাধান।





































