ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরাসরি হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ দূতাবাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
  • / 108

বাংলাদেশ-ইরান

ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানের পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই হামলার পর তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসও এখন সরাসরি ঝুঁকির মুখে।

বিশেষ করে, তেহরান ইউনিভার্সিটির নিউক্লিয়ার মেডিসিন রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং আরও দুটি স্পর্শকাতর স্থাপনার মাত্র এক কিলোমিটারের ভেতরেই বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনটির অবস্থান। এসব স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা থাকায় দূতাবাসের ভবন এবং তাতে অবস্থানরত কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তেহরান থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই নিরাপত্তা হুমকির কারণে দূতাবাসকর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে নিরাপদ বিকল্প আবাসস্থল খুঁজে পাওয়া এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তেহরানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, কর্মকর্তাসহ প্রায় ৪০ জন বর্তমানে দূতাবাসের মাধ্যমে দেশটির বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত। তাদের অনেকেই পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া রেডিও তেহরানে কর্মরত ৮ জন বাংলাদেশি ও তাদের পরিবারসহ আরও ২৭ জন রয়েছেন।

প্রায় শতাধিক বাংলাদেশি বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং ভ্রমণরত ব্যক্তিরা রয়েছেন। বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই দেশে ফিরতে পারছেন না।

ইরানজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আরও অন্তত ৬০০ জন বাংলাদেশি নাগরিক আছেন, যারা ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন। এ ছাড়া প্রায় ৮০০ বাংলাদেশি শ্রমিক বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। কয়েক শ শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন এবং মানব পাচারের ট্রানজিট দেশ হিসেবে ইরানে অবস্থান করা ৩০০–৫০০ জন বাংলাদেশির নিরাপত্তাও এখন উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলি হামলায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে বাংলাদেশ সরকার ইরানে থাকা প্রবাসীদের বিকল্প নিরাপদ স্থানে অথবা তৃতীয় দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সরাসরি হামলার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ দূতাবাস

সর্বশেষ আপডেট ১১:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানের পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই হামলার পর তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসও এখন সরাসরি ঝুঁকির মুখে।

বিশেষ করে, তেহরান ইউনিভার্সিটির নিউক্লিয়ার মেডিসিন রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং আরও দুটি স্পর্শকাতর স্থাপনার মাত্র এক কিলোমিটারের ভেতরেই বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনটির অবস্থান। এসব স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা থাকায় দূতাবাসের ভবন এবং তাতে অবস্থানরত কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তেহরান থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই নিরাপত্তা হুমকির কারণে দূতাবাসকর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে নিরাপদ বিকল্প আবাসস্থল খুঁজে পাওয়া এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তেহরানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, কর্মকর্তাসহ প্রায় ৪০ জন বর্তমানে দূতাবাসের মাধ্যমে দেশটির বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত। তাদের অনেকেই পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া রেডিও তেহরানে কর্মরত ৮ জন বাংলাদেশি ও তাদের পরিবারসহ আরও ২৭ জন রয়েছেন।

প্রায় শতাধিক বাংলাদেশি বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং ভ্রমণরত ব্যক্তিরা রয়েছেন। বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই দেশে ফিরতে পারছেন না।

ইরানজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আরও অন্তত ৬০০ জন বাংলাদেশি নাগরিক আছেন, যারা ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছেন। এ ছাড়া প্রায় ৮০০ বাংলাদেশি শ্রমিক বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। কয়েক শ শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন এবং মানব পাচারের ট্রানজিট দেশ হিসেবে ইরানে অবস্থান করা ৩০০–৫০০ জন বাংলাদেশির নিরাপত্তাও এখন উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলি হামলায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে বাংলাদেশ সরকার ইরানে থাকা প্রবাসীদের বিকল্প নিরাপদ স্থানে অথবা তৃতীয় দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।