সরকারের বাক স্বাধীনতা নেই- ড. আসিফ নজরুল
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 184
অন্তবর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বাক স্বাধীনতা সবার আছে, শুধু সরকারের বাক স্বাধীনতা নেই। বিচার বিভাগের সবকিছু উচ্চ আদালতের কাছে দেওয়া হয়েছে। ৫৪ বছরের ইতিহাসে এটি একটি অসাধারণ সংস্কার। মানবাধিকার আইন করেছি, যা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ভালো। আমাদের লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আগের চেয়ে ১০ গুণ বেশি মানুষ কোনো সমস্যা ছাড়াই উপকৃত হচ্ছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে ৯০ শতাংশ উন্নতি হয়েছে।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) “রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা” শীর্ষক একটি নীতি সংলাপে ড. আসিফ নজরুল এ মন্তব্য করেন ।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ (সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
ড. আসিফ নজরুল আরো বলেন, ভারতীয় আধিপত্য থেকে বাংলাদেশ অনেকটাই মুক্তি পেয়েছে। ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং আমার বিরুদ্ধে হয়েছে জুলাই বিপ্লবের পর। সময় ছাড়া, সব কিছু সংস্কার করা সম্ভব নয়। জামিন করে বিচারক হওয়া, সমস্যা হচ্ছে বিচারকদের এবং প্রধান বিচারপতির। তাই এটি আইন উপদেষ্টার দোষ নয়। ভিউ ভালো এবং মনিটাইজেশন হচ্ছে, এই কারণে গুজব ছড়াচ্ছে, রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। যখন কেউ কোনো সুবিধা চায়, দেওয়ার আগেই সমালোচনা করে দিচ্ছে। রাজনৈতিক দল, মিডিয়া, আপনারা কি নিজেদের সংস্কার করেছেন? আমাদের সৎ, বিবেকবান, পরমতসহিষ্ণু হতে হবে। আমাদের আত্মসমালোচনা করতে হবে। তাহলেই আমরা আমাদের দেশকে আগামী ৫-১০ বছরে অনেক এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।
অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে ছিলেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (বিএলএসএটি) এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ মুকতাদির রশিদ রোমিও, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এর অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ, এবি পার্টি এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা মিলি, সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ এর নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী, গণ অধিকার পরিষদ এর সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, কাপেং ফাউন্ডেশন নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা, অ্যাডভোকেট ও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান, সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ এর সভাপতি জিল্লুর রহমান, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম মেম্বার রাগিব আহসান মুন্না, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ-এর সভাপতি জিল্লুর রহমান।
অনুষ্ঠানে জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক আলোচনায় মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতিফলন কতটা রয়েছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার আপেক্ষিক নয়, মানবাধিকার সর্বজনীন। আমরা জেনেটিক্যালি পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব ধারণা করি। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো পাবলিক গুডস প্রোডিউস করে। টাকা, ক্ষমতা এবং ধর্ম—এই তিনটি বিষয় আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো পুঁজিকরণ করে চলেছে। রাষ্ট্র মব শক্তি বিকশিত করছে। আগস্টের ৯ তারিখে প্রথম সচিবালয়ে এটি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়নারের সামনে দাঁড়াতে হবে এবং তাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে—আমরা কি করছি? রাজনৈতিক দলগুলোকে ইশতেহারে আদিবাসীদের অধিকার থাকতে হবে। আমাদের দেশের মূলনীতি গুলো পরিচর্যা করতে পারে, তাহলেই দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এই টাকা, ক্ষমতা এবং ধর্মের দ্বন্দ্ব দূর করতে হবে। নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকার যেন বৈষম্য বিরোধী আইন তৈরি করে এবং তা বাস্তবায়ন করে। গণভোটে হ্যাঁ বা না বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে স্পষ্টভাবে বলতে হবে।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা সংশোধন হলেও কিন্তু তার প্রয়োগ ঠিকঠাক হচ্ছে না। আগেই কোর্ট কিন্তু অনেকগুলো জামিন দিয়ে দিয়েছে, এই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা। আপনারা যারা সাংবাদিক, রিপোর্টিং করছেন গুম খুন নিয়ে। কিন্তু এখন লিখতে চান না কেন? ট্যাগ খাওয়ার ভয়। আমরা গোল টেবিলে বসি, যাতে একটি সাধারণ সহমত আসতে পারে। কিন্তু আমাদের তো কোনো কনসেনসাস বিল্ডিং হচ্ছে না।কাউকে সংখ্যালঘু বলা উচিত নয়। কিন্তু আমাদের তো সবার সমান সুযোগ নেই। জুলাই চার্টার, ইনক্লুশন, মৌলিক অধিকার নিয়ে কথা হচ্ছিল।
আরো বলেন, বলা হচ্ছে সবাই মানুষ। সবাই তো মব সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে না, নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষ এর শিকার হচ্ছে। আমাদের এটা খেয়াল রাখতে হবে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের শুভাকাঙ্ক্ষীরা কি অবস্থানে আছে, তারা মত প্রকাশ মানবাধিকার পক্ষে দাঁড়াচ্ছে কি না। জুলাই বা আইসিটি নিয়ে কথা বললে কি অবমাননা হয়ে যাবে? ব্রিটিশ আমলের আইন নিয়ে একটু কথা বলুন। ব্লাসফেমি, অ্যান্টি-টেরোরিস্ট, ডিফেমেশন, নিয়ে কথা বলা উচিত। আপনারা ঐতিহ্য নিয়ে কথা বলুন। মানুষকে সচেতন হতে হবে। আমাদেরকে অন্তর্ভুক্তি হতে হবে।
জিল্লুর রহমান বলেন, নির্বাচন ঘনীভূত হলে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। আইন সহজে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে পরিণত হয়। হামলা, সংঘর্ষ, হুমকি, হয়রানি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে ওঠে। মানুষ গণতন্ত্র ও সংস্কারের কথা বলে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনের ব্যাপারে মানুষ এখনো সন্দিহান, যদিও অনেকগুলো রাজনৈতিক দল একসাথে বসার কারণে যথেষ্ট আশার সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশে কি আদৌ আইনের শাসন আছে? মামলা শেষ হতে সময় লাগে বছরের পর বছর।
তিনি আরো বলেন, কোথায় আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা? প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের ওপর হামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর চরম ব্যর্থতা ছিল। কোথায় আমাদের নিরাপত্তা? আওয়ামী সময় ধারণা ছিল, কথা বললে হয়তো গুম হয়ে যাবে। কিন্তু এখন মব কালচার চলছে। সরকারের একজন বলেছেন, মব কালচার বলে কিছু নেই, রাষ্ট্র সেটা নিশ্চিত করছে। ৩২ নম্বর ভাঙ্গা হলো, আমাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি স্থিতিশীল দেশ কিভাবে এসব ঘটে? সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোথায় ছিল? চব্বিশের পর আমরা অনেক ন্যারেটিভ দেখেছি। কিন্তু সংস্কার কমিশনের কাজ তো সমষ্টিগত আকাঙ্ক্ষায় ছিল না। বাংলাদেশে ৫৪ বছরের ইতিহাসে, ভাল নির্বাচনের সংস্কৃতি নেই। আমরা খুব একটা স্বস্তির মধ্যে নেই। আমরা প্রত্যেকে ভুগেছি অতীত সরকারের সময়। অনেকগুলো সংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। মালিকানা পরিবর্তন করতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, এই নির্বাচনে কেন্দ্র করে একটি নতুন কিছু দেখেছি, মানুষের লোভ কাজে লাগিয়ে ছোট ছোট দলগুলোকে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। সর্বপোরি একটি সুপ্রিম নেতা তৈরি করে ফেলা হয় যে এক সময় একটি কাল্ট হয়ে দাঁড়ায়, যার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়। ইতিমধ্যে ১৭ বছরে একটি মজ্জাগত অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে। যার কারণে দেবতার পায়ে অর্ঘো সমর্পণ করার সংস্কৃতি এখনও ভালোভাবেই জীবিত আছে। নির্বাচন কমিশন, যে সম্ভাব্য দল ক্ষমতায় আসবে বলে সবাই ধারণা করছে, তার সামনে রেড কার্পেট বিছিয়ে রাখা হচ্ছে।
গোলাম মোস্তফা বলেন, চব্বিশে আমাদের যথেষ্ট ভোগান্তি হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলে ক্ষমতাশালীরা তাদের শেষ গুছিয়ে নেন, কিন্তু সাধারণ মানুষ হয় ভুক্তভোগী। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন মতধর্মী সংস্কৃতি আমরা দেখেছি বারংবার। আমাদের দরকার মানবাধিকার রক্ষা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ।
আবু সাঈদ খান বলেন, মব এর ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বলতা রয়েছে। আমরা মবকে দমন করতে চাই না। অনেকেই মনে করেন সরকারের অভ্যন্তরীণ কিছু মানুষ এর সাথে যুক্ত থাকতে পারে। আদালতের রায়ের চেয়ে যেন মব শক্তিশালী হচ্ছে। সমালোচনা সহিষ্ণু হতে হবে সরকারকে। যদি সমালোচনা না মানা হয়, তবে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না।
মোঃ মুকতাদির রশিদ রোমিও বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাকি মব মত প্রকাশের স্বাধীনতা? এখনকার বাংলাদেশ হলো একটি কম্পার্টমেন্টেড বাংলাদেশ। প্রত্যেকে নিজের স্বার্থ এবং নিজের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা সৃষ্টি করেছে। অনেকগুলো কমিশন হয়েছে আমাদের এখানে। কিন্তু কার্যকারিতা একেবারে নেই। বর্তমান বাংলাদেশে, নিজস্বতার প্রশ্নে কথা বললেই, মানুষ হয়ে যাচ্ছে ভারতের দালাল, আর আগে হয়ে যেতো পাকিস্তানের দালাল। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলতে কিছু ছিল না, এখনও নেই।
দিদার ভূইয়া বলেন, ঐকমত কমিশনে শাসনের সংস্কার এবং নির্বাচন কমিশনের সংস্কার নিয়ে কেন কথা বলা হয়নি? ঐকমত কমিশনে যখন আমরা প্রশ্ন তুলে ছিলাম, তখন তারা বলেছিল, শুধু সংবিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা হবে। নির্বাচন কমিশন নিজেও কোনো সংস্কার চায় না, যেখানে তার ক্ষমতা কমবে এবং তার স্বাধীনতা খর্ব হবে।
রাগিব আহসান মুন্না বলেন, আমরা যখন এই আলোচনা করছি, তখন আমেরিকার কোর্টে বিচার করা হচ্ছে ল্যাটিন আমেরিকার একটি দেশ, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে। তাদের অপরাধ, তাদের দেশে তেল আছে, সেটা ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে এবং আমেরিকা সেটা দখল করতে চায়। আমরা যে অধিকার, বাক স্বাধীনতা, মানবতার কথা বলছি, সেগুলোকে কিভাবে নিরাপদ করা যায়? পৃথিবীতে যারা চলাচ্ছে সেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো প্রবাহ বিস্তার করতে চায় অন্য রাষ্ট্রের উপর। তারা যে সাম্রাজ্যবাদী নীতি প্রতিষ্ঠা করছে, তার অন্তর্নিহিত ভিত্তি হলো অন্য রাষ্ট্রকে দখল করা এবং তার সম্পদের উপর অধিকার স্থাপন করা। এভাবেই চলে চরম মানবতা লঙ্ঘন। আজকে প্রশ্ন উঠে, সার্বভৌম জাতিগুলোর অস্তিত্ব আদৌ টিকে থাকবে কিনা। এই বাস্তবতায় আমরা আজকে মানবতার কথা বলছি।
পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিপূজা এখন সব রাজনৈতিক দলে দেখা যায়, আর ক্ষমতায় আসার পর দলের অনেক প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর পরিস্থিতি আরও হতাশাজনক হয়ে উঠেছে। যে দল ক্ষমতায় থাকে, তারাই সর্বেসর্বা।
ফারুক হাসান বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে একটি সফট ইঞ্জিনিয়ারিং মেকানিজম নির্বাচন। এটি ইতোমধ্যেই পূর্বনির্ধারিত নির্বাচন। সামনের নির্বাচনে বড় দলগুলো ছোট দলগুলোকে যুক্ত করে গণতন্ত্র ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর ফলে ভিন্নমত তৈরি হচ্ছে না।
পল্লব চাকমা বলেন, প্রতিবছরে আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের রিপোর্ট করি বাংলাদেশে, তবে দুঃখজনক হলেও, এই মানবাধিকার লঙ্ঘন বেড়েই চলেছে। সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড ঘটনায় সরকার কোনো ভূমিকা পালন করেনি, এবং কোনো রাজনৈতিক দলও যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ করেনি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিত।
ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘন স্পষ্ট। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র নেই। দলগুলোর সংগঠনমূলক কার্যক্রমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। “উইনার টেকস অল” এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক সমস্যাগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবতে হবে। জুলাই বিপ্লবের পর, পুলিশ, র্যাব বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নেতারা এখন টেলিভিশনে ব্যস্ত, যারা মানবাধিকার, শাসনতন্ত্র, সুশাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা ছিল।
শেখ ফজলুল করিম মারুফ বলেন, অধিকার একটি আপেক্ষিক বিষয়। রাষ্ট্রের সবাইকে মতপ্রকাশ করতে দিতে হবে। মতপ্রকাশ করতে না দিলে ন্যায়বিচার হবে না। অন্যের মতকে আঘাত করা যাবে না। ২০২৪ সালের পর অনেক পরিবর্তন হয়েছে। মব এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। সরকার এখানে নরম।






























