সরকারি কর্মকর্তাদের “হ্যাঁ” প্রচারণায় আইনগত বাধা নেই
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:০২:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / 9
গণভোটে “হ্যাঁ” পক্ষে প্রচারণা চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট বিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের মূখ্য সমন্বয়ক প্রফেসর আলী রীয়াজ। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সিলেটে বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত ওই সভায় বিভাগীয় সদর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা আয়োজন করে সিলেট বিভাগীয় প্রশাসন।
আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫, বর্তমান সংবিধান, আরপিও বা গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশের কোথাও বলা নেই যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা “ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে” কথা বলতে পারবেন না। তাই প্রচারণায় আইনগত বাধা আছে- এমন কোনো রেফারেন্স কেউ দেখাতে পারবে না। যারা এই বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ হারিয়েছেন বা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছেন। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় ধাপ এই গণভোট।
সরকারি কর্মকর্তারা নৈতিকভাবে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা করতে পারেন কিনা- এমন প্রশ্ন তুলেছেন যারা, তাদের উদ্দেশ্যে আলী রীয়াজ বলেন, “আপনারা কোন নৈতিকতার কথা বলছেন- যে নৈতিকতা তরুণদের রক্ত ও আত্মদানকে অস্বীকার করে?”
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলছেন, তাদের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের বৈধতার ওপর দাঁড়িয়ে এই সরকার কাজ করছে, এটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন- এই তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে। নির্বাচন সরকার আয়োজন করে না, সরকার শুধু অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে; নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। একইভাবে বিচারও আদালত পরিচালনা করবে; সরকার বিচার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়তা করবে। তাই সরকারের মূল ম্যান্ডেট হলো রাষ্ট্র সংস্কার।
গণভোট আগে কোথাও হয়নি- এ ধরনের দাবি নিয়েও আলী রীয়াজ বলেন, ১৯৭২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিশ্বে ৪৮টি গণভোট হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকার “হ্যাঁ” পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। তাই এটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা, নৈতিকভাবে দায়িত্ব ও আইনগতভাবে বাধা নেই।
গণভোটে প্রশ্ন ও বিষয়গুলো সাধারণ মানুষ বুঝবে না- এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে, এমন মন্তব্যের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, মানুষ মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান করতে পারে; অথচ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে জনগণ বুঝবে না- এটি অসম্মানজনক।
তিনি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা অত্যধিক। ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিন্তু এক সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় তা বাতিল হয়। নির্বাচন কমিশন, কর্ম কমিশন ও বিচারপতি নিয়োগ রাষ্ট্রপতির করা কথা থাকলেও বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী হয়। এই একক কর্তৃত্ব ও সংবিধানগত অসঙ্গতির অবসান ঘটাতে জুলাই সনদ ও গণভোট আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, আগের ফ্যাসিবাদী শাসক ফেরার সম্ভাবনা নেই, কিন্তু ফ্যাসিবাদ ফেরার সম্ভাবনা আছে যদি আমরা রাস্তা বন্ধ না করি। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে বহু যুবক নিহত হয়েছেন; ভবিষ্যতে যদি ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে, তাহলে আমাদের সন্তানদের প্রাণও ঝুঁকিতে পড়বে। এজন্যই এই গণভোট করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্যই এই গণভোট। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ- এই লক্ষ্যমাত্রা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই এবারের গণভোটকে “স্বাধীনতার মূল চেতনার আলোকে দেশ গড়ার সুবর্ণ সুযোগ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
































