ঢাকা ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সমন্বয়হীনতায় ড. ইউনূস সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 109

ইউনূস সরকার

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে সমন্বয়ের অভাব। নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অসংগতি শুধু সরকারের ভেতরেই নয়, বরং বাইরে থেকেও নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় উপদেষ্টাদের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। কেউ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেছেন, কেউ বলেছেন সরকারকে দায় নিতে হবে, আবার কেউ বলেছেন সরকার দায় এড়াতে পারে না। ফলে সরকার কী অবস্থান নিচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সংশয় বাড়ছে।

এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারবিরোধী তীব্র সমালোচনায় সরব। তারা শুধু উপদেষ্টাদের নয়, সেনাবাহিনীকেও কঠোরভাবে আক্রমণ করছে। পরিস্থিতির মধ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের বৈঠক নতুন গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মধ্যে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সরকার কি অচিরেই বদল হচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আদৌ হবে কি না, নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিকে দেশ এগোচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ভেতরে-বাইরে সমন্বয়ের অভাব ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য গুজবের ডালপালা মেলতে সাহায্য করছে। এতে সাধারণ মানুষ আরও বিভ্রান্ত হচ্ছে।

সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার পর এই অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করে। হামলার পর উপদেষ্টারা বিভিন্ন রকম বক্তব্য দেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র নিন্দা জানান। কিন্তু স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এ ঘটনার দায় সরকারকেই নিতে হবে। উপদেষ্টাদের এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়ে সমালোচনা ছড়িয়েছে।

এ ঘটনায় বিএনপিও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের মতে, নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য পরিকল্পিতভাবেই অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে। গণঅধিকার পরিষদ সরাসরি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, সেনা ও পুলিশ মিলে নুরের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন, সেনাবাহিনী কার নির্দেশে কাজ করছে। তিনি বলেছেন, নুরের ওপর হামলাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ বলা আসলে ঘটনাটিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

এ অবস্থায় অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছেন, দেশের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া মাঝপথে আটকে আছে; এটা কি সক্ষমতার অভাব, আকাঙ্ক্ষার ঘাটতি, নাকি স্বার্থসংঘাতের ফল, সেই প্রশ্ন উঠছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যেভাবে দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোও সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা না করে নিজেদের স্বার্থে চাপ প্রয়োগ করছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি; সব ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা সেনাপ্রধানকে আশ্বস্ত করেছেন যে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে। সেনাপ্রধানও সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা মানুষ করেছিল, তা বাস্তবায়নের পথে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ভেতরে সুসংহত সমন্বয় না এলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সমন্বয়হীনতায় ড. ইউনূস সরকার

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে সমন্বয়ের অভাব। নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অসংগতি শুধু সরকারের ভেতরেই নয়, বরং বাইরে থেকেও নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় উপদেষ্টাদের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। কেউ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেছেন, কেউ বলেছেন সরকারকে দায় নিতে হবে, আবার কেউ বলেছেন সরকার দায় এড়াতে পারে না। ফলে সরকার কী অবস্থান নিচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সংশয় বাড়ছে।

এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারবিরোধী তীব্র সমালোচনায় সরব। তারা শুধু উপদেষ্টাদের নয়, সেনাবাহিনীকেও কঠোরভাবে আক্রমণ করছে। পরিস্থিতির মধ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের বৈঠক নতুন গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের মধ্যে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সরকার কি অচিরেই বদল হচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আদৌ হবে কি না, নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিকে দেশ এগোচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ভেতরে-বাইরে সমন্বয়ের অভাব ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য গুজবের ডালপালা মেলতে সাহায্য করছে। এতে সাধারণ মানুষ আরও বিভ্রান্ত হচ্ছে।

সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার পর এই অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করে। হামলার পর উপদেষ্টারা বিভিন্ন রকম বক্তব্য দেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র নিন্দা জানান। কিন্তু স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এ ঘটনার দায় সরকারকেই নিতে হবে। উপদেষ্টাদের এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়ে সমালোচনা ছড়িয়েছে।

এ ঘটনায় বিএনপিও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের মতে, নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য পরিকল্পিতভাবেই অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে। গণঅধিকার পরিষদ সরাসরি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, সেনা ও পুলিশ মিলে নুরের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন, সেনাবাহিনী কার নির্দেশে কাজ করছে। তিনি বলেছেন, নুরের ওপর হামলাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ বলা আসলে ঘটনাটিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

এ অবস্থায় অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছেন, দেশের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া মাঝপথে আটকে আছে; এটা কি সক্ষমতার অভাব, আকাঙ্ক্ষার ঘাটতি, নাকি স্বার্থসংঘাতের ফল, সেই প্রশ্ন উঠছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যেভাবে দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলোও সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা না করে নিজেদের স্বার্থে চাপ প্রয়োগ করছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি; সব ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা সেনাপ্রধানকে আশ্বস্ত করেছেন যে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে। সেনাপ্রধানও সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা মানুষ করেছিল, তা বাস্তবায়নের পথে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ভেতরে সুসংহত সমন্বয় না এলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।