সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে ছাত্র উপদেষ্টারা: মুনতাসির মাহমুদ
- সর্বশেষ আপডেট ০২:২২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
- / 94
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি পাওয়া কেন্দ্রীয় সংগঠক মুনতাসির মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশে ‘জুলাই’কে বিক্রি করে দিয়েছে ছাত্র উপদেষ্টারা। তার অভিযোগ, সব উপদেষ্টার মধ্যে ছাত্র উপদেষ্টারাই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে—তারা দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন।
শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে লাইভে এসে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
এর আগে এনসিপির শীর্ষ নেতা আখতার হোসেনকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য ১ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন তিনি। পরবর্তী লাইভে মুনতাসির বলেন, ৫ আগস্টের পর কোনো সমন্বয় বা অন্য কোনো বিষয় নিয়ে যখন কেউ কোনো উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন, তখন তাদের বলা হতো— ‘ওই যে ছাত্র উপদেষ্টা আছেন, তাকে বলুন। তিনি অনুমতি দিলে দেখা করতে দিব।’ ছাত্র উপদেষ্টাদের হাতে ছিল অ্যাবসোলিউট পাওয়ার।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ডিসি, ওসি, এসেনশিয়াল ড্রাগসের এমডি দেওয়া—সবকিছুতেই তাদের প্রভাব ছিল। পেট্রোবাংলার এমডি বসানো, ১০০–২০০ কোটি টাকার ঘুষ—সবকিছুতে অ্যাবসোলিউট ক্ষমতা দেখিয়েছে তারা। তারা জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করেছে।’
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুনতাসির বলেন, বিভিন্ন জেলায় পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) নিয়োগ দিতে তিনি ৫০ লাখ টাকা করে দাবি করেছেন। মুনতাসির নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘তখন আমি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি।’
তিনি জানান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর আসিফ নজরুলসহ অন্যান্যরা দায়িত্ব নেওয়ার সময়ে সারাদেশে পিপি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল। তখন নরসিংদীর শিরিন আক্তার শেলীর নাম তিনি প্রস্তাব করেন। শিরিন আক্তার শেলীর ছেলে গোলাম রেশাদ তমাল ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং আন্দোলনে আহত হয়েছিলেন।
মুনতাসির বলেন, ‘আখতারের লোকজন শিরিন আপার নাম কেটে দিয়ে আরেক নারীর নাম দিয়ে দেয়—ঘুষ নেওয়ার পর। অথচ শিরিন আপা ফ্যাসিবাদী আমলে কতটা আন্দোলন করেছেন, আমাদের কত সমর্থন দিয়েছেন—আখতারকেও দিয়েছেন—তা বলে শেষ করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আখতার বলেছে—পিপি বানাতে হলে ৫০ লাখ টাকা লাগবে। আরেকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শিরিন আপার নাম কেটে দিয়েছে। পরে আমরা তারেক ভাইসহ আসিফ নজরুল স্যারের কাছে গিয়ে বলেছি—তিনি নির্যাতিতা, আপনি তাকে চেনেন; তার ছেলেও ভুক্তভোগী। তিনি সরকারি কোনো সুবিধাও নেননি এবং যোগ্য ব্যক্তি—তাকে সম্মান দিন। এরপর আসিফ নজরুল শিরিন আপাকে পিপি নিয়োগ দেন।’
প্রেস ক্লাবের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মুনতাসির বলেন, ‘আসিফ নজরুল তাকে পিপি বানানোর সঙ্গে সঙ্গেই আখতারের লোক ফোন দিয়ে বলে—আপা, ৫০ লাখ টাকা লাগবে। কাজ হয়ে গেছে, টাকা দিতে হবে। শিরিন আপা খুশি হয়ে নিজের গাড়িতে বসে আখতারের পিএস আতিক মুন্সিকে এক লাখ টাকা দিয়ে দেন। অনেকে এ ঘটনার সাক্ষী আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক লাখ টাকা দেওয়ায় আখতার রেগে যায়। শিরিন আপাকে ফোন দিয়ে বলে, ৫০ লাখ টাকা লাগবে—আমরা যেমন নাম দিতে পারি, তেমনি নাম কেটেও দিতে পারি। এ ধরনের অন্যায় কথা বলেছে।’
মুনতাসির দাবি করেন, এসব দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করায় তার জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। তারপরও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন—ধীরে ধীরে এনসিপির অন্যান্য দুর্নীতিবাজ নেতাদের তথ্যও প্রকাশ করবেন।



































