সত্যি সত্যি ডলার পেলে আসলে ভালোই লাগতো: শবনম ফারিয়া
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
- / 257
জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের পক্ষে বেশ সরব ছিলেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। প্রত্যাশা করেছিলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে বড় কিছু পরিবর্তন ঘটবে। তবে সমসাময়িক কিছু ঘটনা ও একদল সমালোচকের সমালোচনায় হতাশ অভিনেত্রী।
বুধবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় এক দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফারিয়া জানান, নিজ দেশের কাছে আর কোনো প্রত্যাশা রাখেন না তিনি। পাশাপাশি ‘ডলারের কাছে কখনো নৈতিকতা বিসর্জন দেন না’ বলেও মন্তব্য করেন।
শবনম ফারিয়া তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “একটা গল্প আছে না, শীতের সকালে একজন ইমাম আর একজন চোরের? ইমাম ভাবে, কী ভালো একটা মানুষ, এই ঠান্ডায় ফজরের নামাজ পড়তে এসেছে! চোর ভাবে, কী ভদ্রলোক দেখতে, দাড়ি-টুপি রেখে আবার চুরি করে! এই গল্প থেকে আমরা কী শিখেছিলাম? যে যেমন, যার চিন্তাধারা যেমন, অন্যদেরও তাদের সেরকমই মনে হয়!”
ফারিয়া বলেন, “কিন্তু বিশ্বাস করেন, পৃথিবীর সব মানুষ টাকার (ডলারও পড়তে পারেন) কাছে তাদের ‘এথিক্স’ বিক্রি করে না। দুনিয়ার ‘সব মানুষের’ কাছে টাকাই ‘সব’ না। মানুষ স্রোতের বিপরীতেও যায়, রিস্ক নেয়।”

এরপর জুলাইয়ের ঘটনা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জুন মাসে যখন আন্দোলন তুঙ্গে, ইন্টারনেট চলে যাওয়ার পরপর যেসব সেলিব্রিটিদের কাছে মেট্রোরেল/বিটিভিতে আগুন দেওয়ার প্রতিবাদ করার জন্য ভিডিও বানাতে বলা হয়, আমিও তাদের মধ্যে একজন। আমি প্রথমে সময় চাই, বলি ভেবে জানাবো। স্বাভাবিক, সে সময় ডিরেক্ট না করার মতো সাহস জোগাড় করতে পারিনি। তারাও বলে সময় নেন, আপাতত এমনেই ইন্টারনেট নাই। যেহেতু হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ, তাও সিয়ামকে মেসেজ দেই— ‘তুমি কি কল পেয়েছো?’ সে আমাকে জানায়, পেয়েছে এবং না করেছে। তখন আমিও সাহস পাই এবং না বলে দেই।”
ফারিয়া আরও বলেন, “এসব কথা অযথা বলে বেড়ানোর কোনো ইচ্ছা আমার ছিল না। সে সময় এটাই করার কথা— না বলেছি বলে আমি বিশেষ কোনো ক্রেডিট নিতে চাইনি। যেহেতু আমি ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ কোনোভাবেই জড়িত না, অদূর ভবিষ্যতেও কোনো ইচ্ছা কিংবা পরিকল্পনা নেই, তাও যখন দেখি কেউ লেখে ‘এরা তো ডলার খাইছে’ মার্কা কল্পনিক গল্প, হাসা ছাড়া কিছু করার থাকে না।”

তিনি বলেন, “আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি যারা মন থেকে আওয়ামী লীগ ভালোবাসে। কিন্তু জুলাইতে লাল ডিপি দিয়েছিল। হয়তো জুলাইকে আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে যেভাবে সে সময় পোট্রে করা হয়েছিল, এখন বিষয়টা তেমন নাই। কিন্তু সে সময় আপনি যদি মানুষ হয়ে থাকেন, অমানুষ না হন, তাহলে আপনি কোনো মানুষকে হত্যা করার প্রতিবাদ না করে থাকতে পারতেন না— আপনার রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা মতাদর্শ যাই হোক না কেন।”
নিজ দেশের কাছে আর কোনো প্রত্যাশা নেই জানিয়ে ফারিয়া লিখেছেন, “এই স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের পলিটিক্স নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়া বন্ধ করলাম। কারণ ফাইনালি আমি বুঝে গেছি, জাতি হিসেবে আমরা অত্যন্ত বেহায়া এবং নির্লজ্জ। আমরা কখনো ভালো হবো না। যত আন্দোলন হোক, সরকার পরিবর্তন হোক, যতই শান্তিতে নোবেল পাওয়া মানুষ আসুক, আমাদের কেউ দুর্নীতি এবং চুরি করা থেকে আটকাতে পারবে না। শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ— যেই ক্ষমতা পাবে, সেই তার অসৎ ব্যবহার করবে। আমি আর আমার নিজ দেশের কাছে কোনো প্রত্যাশা রাখি না।”
পরিশেষে ফারিয়া লেখেন, “সত্যি সত্যি ডলার পেলে আসলে ভালোই লাগতো। শ্রীলঙ্কা যাওয়ার আগে ২৫,৩০০ টাকা দিয়ে ২০০ ডলার পাসপোর্টে এন্ডোর্স করতে খুবই কষ্ট হয়েছে।”































