শিশু হাসপাতালে ৬৫ চিকিৎসকের অবৈধ নিয়োগ
সতর্ক করেই ছেড়ে দেয়া হলো দায়ীদের!
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
- / 128
নিয়মবহির্ভুতভাবে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬৫ জন চিকিৎসককে নিয়োগ দেয়ার প্রমাণ পেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি অধিদপ্তর। শুধুমাত্র সতর্ক করেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর এ ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে চিকিৎসকদের মাঝে। তারা বলছেন, অনিয়ম করেও এভাবে ছাড়া পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে এরচেয়ে বড় অন্যায় করতেও কেউ ভয় পাবে না।
জানা যায়, গত ৪ জুলাই কোনো লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই ৬৫ জন চিকিৎসককে অভ্যন্তরীণভাবে নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কোনো জাতীয় দৈনিক বা হাসপাতালের ওয়েবসাইটেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। গোপন অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়। আবার বেশিরভাগ নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন পূর্বে অনারারি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত, যাদের মধ্যে অনেকেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি।
বিষয়টি জানাজানি হলে তদন্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তদন্তে একাধিক অনিয়মের প্রমাণও মেলে। তদন্ত শেষে মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। পরে নিয়োগ পাওয়া ৬৫ জন চিকিৎসকের চাকরি বাতিল করে হাসপাতালটির বোর্ড।
তবে, এমন গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পেয়েও হাসপাতালটির দায়ি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন ধরণের ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ২৬ সেপ্টেম্বর শুধুমাত্র সতর্ক করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত সচিব নাফরিজা শ্যামা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, কোন প্রকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে পরিচালনা বোর্ড নিজেদের ইচ্ছামতো এবং সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, ঢাকা এর মতো সরকারি সাহায্যপুষ্ট একটি বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করেছে। এছাড়া এই ঘটনায় অন্তবর্তী সরকারের অনুসৃত স্বচ্ছতার নীতির মারাত্মক লঙ্ঘন ঘটেছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, নিয়মবহির্ভুত ও অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে পরিচালনা বোর্ড এর সভাপতি, সকল সদস্য এবং পরিচালককে কঠোরভাবে চূড়ান্ত সতর্ক করা হলো। ভবিষ্যতে এরূপ কোনো রাতায় ঘটিলে পুনরায় কোন সতর্কীকরণ ছাড়াই উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২০ জুলাই ৬৫ জনের নিয়োগ বাতিল করে, নিয়ম অনুযায়ী গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নতুন করে ৪২ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কোনো ধরনের নিয়োগ না দেয়ার নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে হাসপাতালের চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল নিয়োগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নিয়োগ কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানানো হয়।
বঞ্চিত চিকিৎসকদের অভিযোগ ছিলো, ২০২১ সালেও একইভাবে ৬০ জন চিকিৎসককে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে পরে স্থায়ী করা হয়েছিল। এবারও একই কৌশল গ্রহণ করায় তারা এটিকে “জুলাই বিপ্লবের আদর্শের সঙ্গে প্রতারণা” বলে অভিহিত করেন।
তাদের বক্তব্য, “যদিও শিশু হাসপাতাল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সরকার এর এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় বহন করে। ফলে নিয়োগে স্বচ্ছতা ও নিয়মকানুন মানার বিষয়টি বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। অথচ প্রতিটি ধাপে তা উপেক্ষিত হয়েছে।






































