সকালে নাশতা না করলে ভয়ংকর ঝুঁকি
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 17
সকাল মানেই অফিসে দেরি, বাচ্চাদের স্কুল, বাস ধরার চাপ এই ব্যস্ততায় অনেকের দিন শুরু হয় এক কাপ চা বা কফিতেই। আবার কেউ কেউ ইচ্ছে করেই নাশতা বাদ দেন ওজন কমানোর আশায়। কিন্তু এই অভ্যাস যে শরীরের জন্য ধীরে ধীরে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, সেটা অনেকেই টের পান না।
পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের নাশতা শুধু একটি খাবার নয় এটি সারাদিনের শরীর ও মনের ‘ফুয়েল’। ইটিং ওয়েল–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ চার্লি রিফকিন জানাচ্ছেন, নিয়মিত নাশতা বাদ দিলে শরীরে একাধিক শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
সারাদিন ক্লান্তি আর কাজে মন না বসার কারণ_
সকালে কিছু না খেলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় না। ফলে অফিসে বা ঘরের কাজে মনোযোগ কমে যায়, দ্রুত ক্লান্ত লাগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের তিন বেলার মধ্যে সকালের নাশতাই হওয়া উচিত তুলনামূলক ভারি ও পুষ্টিকর। এতে শরীর সারাদিন কাজ করার শক্তি পায়, মাথা ঝিমুনি দেয় না।
মেজাজ খিটখিটে_
খালি পেটে থাকলে শুধু পেট নয়, মস্তিষ্কও অস্থির হয়ে পড়ে। ফলে রাগ বেড়ে যায়, মন খারাপ লাগে, কাজে মন বসে না। নিয়মিত নাশতা করলে মস্তিষ্কে ‘সুখী হরমোন’ সেরোটোনিন নিঃসরণ বাড়ে, যা মুড ভালো রাখতে সাহায্য করে।
সারাদিনই ক্ষুধা লাগা_
অনেকে ভাবেন নাশতা বাদ দিলে কম খাওয়া হবে। বাস্তবে হয় উল্টোটা। সকালে না খাওয়ার কারণে শরীর দ্রুত শক্তির উৎস খুঁজতে থাকে। তখনই ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড বা মিষ্টিজাতীয় খাবারের দিকে ঝোঁক বাড়ে। এতে কিছুক্ষণ পর আবার ক্ষুধা লাগে ওজনও বাড়ে, শরীরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি_
সকালে শরীরে সবচেয়ে বেশি নিঃসৃত হয় কর্টিসল, অর্থাৎ স্ট্রেস হরমোন। নাশতা না করলে এই হরমোনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা ও মেটাবলিজমের গোলমাল তৈরি করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের নাশতায় প্রোটিন থাকলে কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে থাকে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও পড়ে ঝুঁকিতে_
নিয়মিত নাশতা শরীরের কোষ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে শক্ত রাখে। আর নাশতা বাদ দিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ভাইরাস বা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়, অসুখে সহজে কাবু হয়ে পড়তে হয়।





































