ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংস্কার নিয়ে বিএনপিকে খোচা দিলেন উপদেষ্টা আসিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 120

সংস্কার নিয়ে বিএনপিকে খোচা দিলেন উপদেষ্টা আসিফ

অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, যারা একসময় সংস্কারের কথা বলতেন, তাদের অনেকেই এখন সংস্কারবিরোধী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই রাজনীতি দেশের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি ব্যক্তিগতভাবে তাদের জন্যও কোনো সুফল বয়ে আনবে কি না তা অনিশ্চিত।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল—সংস্কার, বিচার এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর। বিচারের প্রক্রিয়া চলছে, এমনকি ১৩ নভেম্বর একটি মামলার রায়ও ঘোষণা হতে যাচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেই ফ্যাসিবাদী শক্তি ঢাকায় লকডাউনের ডাক দিয়েছে, যা উদ্বেগজনক।”

তিনি বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক রূপান্তরের কথা বলি, কিন্তু বাস্তবতায় দেখি—নির্বাচনে অংশ নিতে হলে কোটি কোটি টাকা দরকার। ২০ কোটি টাকা ছাড়া কেউ ভোটে নামতে পারে না। ফলে যাদের কাছে কালো টাকা আছে, তারাই সুযোগ পাচ্ছে। আর কেউ অন্যের অর্থে ভোট করলে পরবর্তীতে সেই অর্থদাতার স্বার্থই রক্ষা করতে হয়।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “মানুষ ভোটে অংশ নিতে চায়, কিন্তু বর্তমান কাঠামো এমন যে, অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল না হলে নির্বাচনের বাস্তব সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে দু-একজন হয়তো ব্যতিক্রম হতে পারেন, কিন্তু সার্বিক পরিবর্তন অসম্ভব।”

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “৫ আগস্টের পর যারা বিপ্লবের অংশ ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন সংস্কারবিরোধী রাজনীতিতে চলে গেছেন। এতে দেশের উপকার হচ্ছে না, বরং মুজিববাদী রাজনীতিকে আবার প্রাসঙ্গিক করে তোলা হচ্ছে। এতে আসলে লাভ হচ্ছে কার?”

“নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত” শব্দটিকে জনপ্রিয় উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “অনেকে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছেন, কিন্তু তার স্পষ্ট রূপরেখা কেউ দিচ্ছে না। কিছু জনপ্রিয় কর্মকাণ্ড বা পপুলিস্ট অ্যাক্টিভিজম দিয়ে নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং পরিকল্পনা না থাকলে কোনো নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজাহার, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ অনেকে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সংস্কার নিয়ে বিএনপিকে খোচা দিলেন উপদেষ্টা আসিফ

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, যারা একসময় সংস্কারের কথা বলতেন, তাদের অনেকেই এখন সংস্কারবিরোধী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই রাজনীতি দেশের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি ব্যক্তিগতভাবে তাদের জন্যও কোনো সুফল বয়ে আনবে কি না তা অনিশ্চিত।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল—সংস্কার, বিচার এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর। বিচারের প্রক্রিয়া চলছে, এমনকি ১৩ নভেম্বর একটি মামলার রায়ও ঘোষণা হতে যাচ্ছে। কিন্তু এর মধ্যেই ফ্যাসিবাদী শক্তি ঢাকায় লকডাউনের ডাক দিয়েছে, যা উদ্বেগজনক।”

তিনি বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক রূপান্তরের কথা বলি, কিন্তু বাস্তবতায় দেখি—নির্বাচনে অংশ নিতে হলে কোটি কোটি টাকা দরকার। ২০ কোটি টাকা ছাড়া কেউ ভোটে নামতে পারে না। ফলে যাদের কাছে কালো টাকা আছে, তারাই সুযোগ পাচ্ছে। আর কেউ অন্যের অর্থে ভোট করলে পরবর্তীতে সেই অর্থদাতার স্বার্থই রক্ষা করতে হয়।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “মানুষ ভোটে অংশ নিতে চায়, কিন্তু বর্তমান কাঠামো এমন যে, অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল না হলে নির্বাচনের বাস্তব সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে দু-একজন হয়তো ব্যতিক্রম হতে পারেন, কিন্তু সার্বিক পরিবর্তন অসম্ভব।”

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “৫ আগস্টের পর যারা বিপ্লবের অংশ ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন সংস্কারবিরোধী রাজনীতিতে চলে গেছেন। এতে দেশের উপকার হচ্ছে না, বরং মুজিববাদী রাজনীতিকে আবার প্রাসঙ্গিক করে তোলা হচ্ছে। এতে আসলে লাভ হচ্ছে কার?”

“নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত” শব্দটিকে জনপ্রিয় উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “অনেকে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছেন, কিন্তু তার স্পষ্ট রূপরেখা কেউ দিচ্ছে না। কিছু জনপ্রিয় কর্মকাণ্ড বা পপুলিস্ট অ্যাক্টিভিজম দিয়ে নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং পরিকল্পনা না থাকলে কোনো নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।”

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজাহার, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ অনেকে।