ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংসদে সবার প্রতিনিধিত্ব চায় এনসিপি

আকাশ মারমা মংসিং, বান্দরবান
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
  • / 142

বান্দরবানে নাহিদ ইসলাম

“আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির মিলন ঘটবে। সকল জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করা হবে এবং জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অখণ্ডতা বজায় রাখা হবে।”

শনিবার রাত ৮টার দিকে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “বান্দরবানে কোনো জাতির পরিচয় ভিত্তিক নিপীড়ন কিংবা বিভাজন মেনে নেওয়া হবে না। প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে ইনসাফভিত্তিক উন্নয়ন পৌঁছে দিতে চাই। তাই আগামী দিনের সংসদে সকল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে উভয় কক্ষে নিশ্চিত করা হবে।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশে বহু জাতিসত্তা যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। ১৯৭২ সালের সংবিধান তা পুরোপুরি স্বীকৃতি দিতে পারেনি, ফলে সকল জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের জন্য তা সাংবিধানিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। যে সংবিধান মুজিববাদী নামে পরিচিত, তা গোড়া থেকেই ফ্যাসিবাদী—এই সংবিধান রাষ্ট্র ও সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই এই বিভাজনের অবসান ঘটেছে এবং আমরা এক ঐক্যবদ্ধ জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।”

এসময় এনসিপি নেতা রাফি বলেন, “যারা দিল্লি পালিয়ে গেছে, তাদেরকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব। যারা দেশের ভাইবোনদের হত্যা করেছে, তাদের বিচার হবেই। আমরা ‘বিচার ও সংস্কারে একমত’—বিচার ও সংস্কারের আগে কোনো তথাকথিত নির্বাচন চাই না।”

নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “বান্দরবানের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন না করে গত ১৫ বছর ধরে কিছু গোষ্ঠী নিজেদের পকেট ভারী করেছে। এই জেলায় জাতিগোষ্ঠীভিত্তিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদি আমরা ভবিষ্যতে সরকার গঠন করতে পারি, তবে একটি নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বান্দরবান ও পাশ্ববর্তী জেলার প্রতিটি সমস্যার সমাধান সংবিধানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে করব। এখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও পক্ষগোষ্ঠীর ইন্ধনে বিভেদের পরিবেশ রাখা হয়েছে, তা ভেঙে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ব। সেই সঙ্গে সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে শেখ হাসিনার বিচারও সম্পন্ন হবে।”

দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “বান্দরবানে বিভিন্ন জাতিসত্তার মিলন ঘটলেও দুঃখজনকভাবে তারা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়নি। ১৯৭২-এর সংবিধানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি না দিয়ে সবাইকে জোর করে বাঙালি বানানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এনসিপি সবসময় বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পরবর্তী বাংলাদেশ নির্মাণে ভাষাগত, ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র্যকে সংবিধানে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পাহাড়ের সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

এর আগে, শনিবার দুপুর ৩টা থেকে বান্দরবানে এনসিপির পদযাত্রাকে ঘিরে সমাবেশস্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাত ৮টায় সমাবেশে যোগ দেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, বান্দরবান এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক শহীদুল ইসলাম সোহেলসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য সমন্বয়কবৃন্দ।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সংসদে সবার প্রতিনিধিত্ব চায় এনসিপি

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৪৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

“আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির মিলন ঘটবে। সকল জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করা হবে এবং জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অখণ্ডতা বজায় রাখা হবে।”

শনিবার রাত ৮টার দিকে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “বান্দরবানে কোনো জাতির পরিচয় ভিত্তিক নিপীড়ন কিংবা বিভাজন মেনে নেওয়া হবে না। প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে ইনসাফভিত্তিক উন্নয়ন পৌঁছে দিতে চাই। তাই আগামী দিনের সংসদে সকল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে উভয় কক্ষে নিশ্চিত করা হবে।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশে বহু জাতিসত্তা যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। ১৯৭২ সালের সংবিধান তা পুরোপুরি স্বীকৃতি দিতে পারেনি, ফলে সকল জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের জন্য তা সাংবিধানিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। যে সংবিধান মুজিববাদী নামে পরিচিত, তা গোড়া থেকেই ফ্যাসিবাদী—এই সংবিধান রাষ্ট্র ও সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই এই বিভাজনের অবসান ঘটেছে এবং আমরা এক ঐক্যবদ্ধ জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।”

এসময় এনসিপি নেতা রাফি বলেন, “যারা দিল্লি পালিয়ে গেছে, তাদেরকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব। যারা দেশের ভাইবোনদের হত্যা করেছে, তাদের বিচার হবেই। আমরা ‘বিচার ও সংস্কারে একমত’—বিচার ও সংস্কারের আগে কোনো তথাকথিত নির্বাচন চাই না।”

নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “বান্দরবানের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন না করে গত ১৫ বছর ধরে কিছু গোষ্ঠী নিজেদের পকেট ভারী করেছে। এই জেলায় জাতিগোষ্ঠীভিত্তিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদি আমরা ভবিষ্যতে সরকার গঠন করতে পারি, তবে একটি নতুন কাঠামোর মাধ্যমে বান্দরবান ও পাশ্ববর্তী জেলার প্রতিটি সমস্যার সমাধান সংবিধানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে করব। এখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও পক্ষগোষ্ঠীর ইন্ধনে বিভেদের পরিবেশ রাখা হয়েছে, তা ভেঙে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ব। সেই সঙ্গে সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে শেখ হাসিনার বিচারও সম্পন্ন হবে।”

দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “বান্দরবানে বিভিন্ন জাতিসত্তার মিলন ঘটলেও দুঃখজনকভাবে তারা সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়নি। ১৯৭২-এর সংবিধানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি না দিয়ে সবাইকে জোর করে বাঙালি বানানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এনসিপি সবসময় বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পরবর্তী বাংলাদেশ নির্মাণে ভাষাগত, ধর্মীয় ও জাতিগত বৈচিত্র্যকে সংবিধানে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পাহাড়ের সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

এর আগে, শনিবার দুপুর ৩টা থেকে বান্দরবানে এনসিপির পদযাত্রাকে ঘিরে সমাবেশস্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাত ৮টায় সমাবেশে যোগ দেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, বান্দরবান এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক শহীদুল ইসলাম সোহেলসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য সমন্বয়কবৃন্দ।