শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 115
চট্টগ্রাম বন্দর নতুন ট্যারিফ শিডিউলে পণ্যবাহী গাড়ি ও সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের গেটপাস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রাইমমুভার, ট্রেইলার মালিক ও সিঅ্যান্ডএফ শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়েছে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির ফলে বন্দর থেকে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার আনা-নেওয়া বন্ধ রয়েছে। বন্দরের সব গেট বন্ধ থাকায় কোনো ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে নিত্যদিনের মতো গেটগুলোতে যানজট বা ভিড় নেই।
শ্রমিকরা দাবি করেছেন, নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী ভারী গাড়ির প্রবেশ ফি ৫৭ টাকা থেকে বেড়ে ২৩৫ টাকা এবং সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের গেটপাস ফি এক লাফে ১১৫ টাকা করা হয়েছে, যা তারা ‘অযৌক্তিক’ বলে মনে করছেন।
কর্মসূচি পালন করছে প্রাইমমুভার, ট্রেইলার মালিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এবং আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতি। সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের চার ঘণ্টার কর্মবিরতি দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। এ অবস্থায় বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে।
চট্টগ্রাম প্রাইমমুভার ও ফ্লাটবেড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “এটি ধর্মঘট নয়, ৫৭ টাকার পাস ২৩৫ টাকায় বৃদ্ধি হওয়ায় গাড়ি চালানো বন্ধ রাখা হয়েছে।”
চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “সকাল ৯টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে সিঅ্যান্ডএফ মালিক ও শ্রমিকরা চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন।”
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, ট্রেইলার ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি সমস্যা চলতে থাকে, পুরো বন্দরের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়বে।
এর আগে শনিবার (১৮ অক্টোবর) অতিরিক্ত ট্যারিফ আরোপের প্রতিবাদে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের এক সভায় সংগঠনের সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ করা হবে।
৫ নম্বর গেটে অবস্থানরত সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “৩৫ বছর ধরে বন্দরে কাজ করছি। গেটপাস ফি প্রথমে ৫০ পয়সা ছিল, ধীরে ধীরে বেড়ে ১০ টাকা হয়েছে। এখন এক লাফে ১১৫ টাকা করা হয়েছে, এজন্যই আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। কোনো পণ্য খালাস বা জাহাজীকরণ হচ্ছে না।”
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোবারক আলী বলেন, “আমরা রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখি। অথচ আমাদের গেটপাস ফি ১১৫ টাকা করা হয়েছে, যা অযৌক্তিক। বন্দরের উচিত এই ফি মওকুফ করা।”
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, “কিছু স্থানে ট্রেইলার ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে বন্দরের হ্যান্ডলিং ও অপারেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।”






































