ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে রাতের আঁধারে উপকূল রক্ষা বাঁধ কাটা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 83

উপকূল রক্ষা বাঁধ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক চিংড়ি ঘেরমালিক নোনাপানি নেওয়ার জন্য পাইপ বসাতে গিয়ে রাতের বেলা উপকূল রক্ষা বাঁধ কেটে ফেলেছেন। শনিবার রাতে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর জেলেপাড়ায় শ্যামনগর উপজেলাকে ঘিরে থাকা ৫ নম্বর পোল্ডারে এই ঘটনা ঘটেছে। বাঁধ কাটার প্রতিবাদে স্থানীয়দের হুমকির অভিযোগ উঠেছে ঘেরমালিক সাজেদুর রহমান শান্ত ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ফজলুল হকের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, পাশের মালঞ্চ নদী থেকে চিংড়ি ঘেরে পানি নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধ কাটা হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, সাজেদুর রাত ৯টার দিকে তার লোকজন নিয়ে বাঁধের ওপর নির্মিত পাকা সড়ক কেটে কয়েক ফুট গভীর করে নদীর পানি নেওয়ার উপযোগী করে সেখানে পাইপ বসান। প্রতিবাদ করা লোকদের তিনি হুমকি দিয়েছেন।

বাঁধের ওপর নির্মিত রাস্তা সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি থাকলেও চিংড়ি ঘেরে পানি তোলার জন্য বাঁধ কেটে পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের হুমকির অভিযোগ করা হয়েছে।

সাজেদুর রহমান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মী তাঁকে বাঁধ কেটে পাইপ স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতা ফজলুল হকও দাবি করেন, চিংড়ি ঘেরে মাছ মারা যাওয়ায় পাইপ স্থাপন বাধ্যতামূলক হয়েছিল এবং কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।

পাউবো শ্যামনগরের উপসহকারী প্রকৌশলী প্রিন্স রেজার বলেন, বাঁধের ওপর স্থাপিত পাইপ অপসারণ করা হয়েছে, তবে কেউ কেউ সুযোগ নিয়ে পাইপ বসাচ্ছে। জেলেপাড়া এলাকার বাঁধ কাটার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেদারুল ইসলাম বলেন, উপকূল রক্ষা বাঁধের ক্ষতি করে কোনো কাজ করা যাবে না। বাঁধ কাটা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শ্যামনগরে রাতের আঁধারে উপকূল রক্ষা বাঁধ কাটা হচ্ছে

সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক চিংড়ি ঘেরমালিক নোনাপানি নেওয়ার জন্য পাইপ বসাতে গিয়ে রাতের বেলা উপকূল রক্ষা বাঁধ কেটে ফেলেছেন। শনিবার রাতে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর জেলেপাড়ায় শ্যামনগর উপজেলাকে ঘিরে থাকা ৫ নম্বর পোল্ডারে এই ঘটনা ঘটেছে। বাঁধ কাটার প্রতিবাদে স্থানীয়দের হুমকির অভিযোগ উঠেছে ঘেরমালিক সাজেদুর রহমান শান্ত ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ফজলুল হকের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, পাশের মালঞ্চ নদী থেকে চিংড়ি ঘেরে পানি নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধ কাটা হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, সাজেদুর রাত ৯টার দিকে তার লোকজন নিয়ে বাঁধের ওপর নির্মিত পাকা সড়ক কেটে কয়েক ফুট গভীর করে নদীর পানি নেওয়ার উপযোগী করে সেখানে পাইপ বসান। প্রতিবাদ করা লোকদের তিনি হুমকি দিয়েছেন।

বাঁধের ওপর নির্মিত রাস্তা সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি থাকলেও চিংড়ি ঘেরে পানি তোলার জন্য বাঁধ কেটে পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের হুমকির অভিযোগ করা হয়েছে।

সাজেদুর রহমান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মী তাঁকে বাঁধ কেটে পাইপ স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতা ফজলুল হকও দাবি করেন, চিংড়ি ঘেরে মাছ মারা যাওয়ায় পাইপ স্থাপন বাধ্যতামূলক হয়েছিল এবং কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।

পাউবো শ্যামনগরের উপসহকারী প্রকৌশলী প্রিন্স রেজার বলেন, বাঁধের ওপর স্থাপিত পাইপ অপসারণ করা হয়েছে, তবে কেউ কেউ সুযোগ নিয়ে পাইপ বসাচ্ছে। জেলেপাড়া এলাকার বাঁধ কাটার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেদারুল ইসলাম বলেন, উপকূল রক্ষা বাঁধের ক্ষতি করে কোনো কাজ করা যাবে না। বাঁধ কাটা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করা হবে।