শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম: শেষবারের মতো হাদিকে দেখার অপেক্ষায় স্বজনরা
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:১১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 120
জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি। হাদিশূন্য বসতভিটায় ভিড় করছেন চেনা-অচেনা অসংখ্য মানুষ। একই সঙ্গে শোকের মাতম চলছে তার শ্বশুরবাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জেও। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজন ও গ্রামবাসী।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জীবদ্দশায় হাদির ইচ্ছা ছিল—তাকে যেন বাবার কবরের পাশেই সমাহিত করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নিহত হাদির ভগ্নিপতি আমীর হোসেন চ্যানেল ২৪-কে জানান, “হাদির ইচ্ছে ছিল তাকে তার বাবার পাশেই দাফন করা হোক।”
একটি টিনসেড ঘরেই জন্ম হয়েছিল সৈয়দ শরীফ ওসমান হাদির। নলছিটি উপজেলার খাসমহল পৌর এলাকার এই ঘরেই কেটেছে তার শৈশব-কৈশোর। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হাদি আজ সেই ঘরে কেবলই একটি ছবি। ঘাতকের গুলিতে চিরবিদায়ের পর শূন্যতায় ছেয়ে গেছে তার জন্মভূমি।
১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া ওসমান হাদি ছিলেন বাবা মাওলানা আবদুল হাদি ও মা তাসলিমা হাদির ছয় সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। এলাকাবাসীর ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই হাদি ছিলেন প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর। নেছারাবাদ এন এস কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
স্বজনদের পাশাপাশি গ্রামবাসীর কাছেও হাদি ছিলেন শুধু একটি নাম নয়—চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া এক প্রতিচ্ছবি। তাই তার মৃত্যু মানতে পারছেন না কেউই। কেউ অঝোরে কাঁদছেন, কেউবা নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলছেন।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই হাদির ভাঙাচুরা ঘরের সামনে ভিড় করেন বহু মানুষ। বাড়িতে থাকা তার বোন ও বোনের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলছেন আগতরা। কেউ স্মৃতিচারণ করছেন, কেউ জোরালো কণ্ঠে দাবি তুলছেন—হাদি হত্যার বিচার চাই।
অন্যদিকে, বরিশালের বাবুগঞ্জে হাদির শ্বশুরবাড়িতেও চলছে গভীর শোক। অল্প বয়সে স্বামীহারা স্ত্রী এবং একমাত্র সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনরা। তাদের দাবি—আর যেন হাদির মতো কোনো সন্তানের মৃত্যুতে কোনো মায়ের কোল খালি না হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
































